গোপন সূরার গোপন খবর:পর্ব-১ম


৭৪:৩০ "ইহার উপর ১৯।"


কোরআনের সর্বত্র একটি বিস্ময়কর গানিতিক সংখ্যার জাল বোনা রয়েছে।

আল্লাহ ১৯ সংখ্যার মাধ্যমে কোরআনকে কে এমন এক গানিতিক ফর্মুলায় সাজিয়ে রেখেছেন যেন এতে ব্যবহৃত বর্ণমালা , শব্দ ও আয়াতসমূহের কোনোরকম পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন এবং বিয়োজন কারো পক্ষে সম্ভব না হয়।


* ১৯ ইচ্ছে করে বেছে নেয়া হয়নি। ১৯ কোরআন থেকে নেয়া হয়েছে। সূরা মুদ্দাসসিরের ৩০ নম্বর আয়াতে ১৯ সংখ্যাটি আছে।  আয়াতটি হলো ‘আলাইহা তিসয়াতা আশারা’ অর্থাৎ ‘ইহার উপর ১৯’।


* ১৯ সংখ্যাকে বেছে নেয়ার কারনও বলা আছে  ৩১ নাম্বার আয়াতে।

১. কাফেরদেরকে পরীক্ষা করার জন্যে

২. কিতাবীরা দৃঢ়বিশ্বাসী হয়

৩. মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায়

৪. কিতাবীরা ও মুমিনগণ সন্দেহ পোষণ না করে

৫. আল্লাহ এর দ্বারা কি বোঝাতে চেয়েছেন

   

* ১৯ একটি মৌলিক সংখ্যা, প্রাইম নাম্বার।

 https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_prime_numbers


* ১৯ আছে ৩০ নম্বর আয়াতে। ১৯ এবং ৩০ এই দুটির মধ্যে একটা সম্পর্ক আছে।

১৯ একটা প্রাইম নাম্বার, আর ৩০ হচ্ছে ১৯ তম নন্ প্রাইম নাম্বার।

(৪, ৬, ৮, ৯, ১০, ১২, ১৪, ১৫, ১৬, ১৮, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ৩০)।

https://en.wikipedia.org/wiki/Composite_number


প্রাইম নাম্বার এবং নন্ প্রাইম নাম্বার এক আয়াতে বিদ্যমান এবং সংখ্যা দুটো ১৯ রিলেটেড।

১৯তম নন্ প্রাইম নাম্বার আয়াতে প্রাইম নাম্বার ১৯ দিয়ে কিছু একটা ইঙ্গিত করা হয়েছে!

কি ইঙ্গিত করা হয়েছে তা জানতে, বুঝতে, খুঁজতে, অনুধাবন করব:



১) কোরআন যে ১৯ সংখ্যার গানিতীক কোড দিয়ে সাজানো প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯৭৪ সালে।

এরপরই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা শুরু হয়। আরবী "মুদ্দাসসির" শব্দটির অর্থ "লুকায়িত" বা গোপন।
সূরা মুদ্দাসসির কোরআনের ৭৪ তম সূরা ।

কথা হচ্ছে, যখন আমরা আবিষ্কৃত ১৯ আর সূরা মুদ্দাসসির এর কোরআনে অবস্থান ৭৪ কে পাশাপাশি বসাই, তখন যে সংখ্যাটি পাওয়া যায় তা হলো ১৯৭৪, যা যে সালে বিষয়টি আবিষ্কার হয়েছে তার সমান।

রহস্যটা যদি এখানেই শেষ হয়ে যেতো!


২) সূরাটি ৭৪ নং সূরা, মুদ্দাসসির শব্দটা আছে ১ নং আয়াতে অথাৎ ৭৪:১।

যদি (:) বাদ দিয়া হয় তাহলে সংখ্যাটি হয় ৭৪১। এই ১ নং আয়াতটি থেকে শুরু করে , কোরআনের সর্বশেষ আয়াত পর্যন্ত গননা করলে মোট ৭৪১ টা আয়াত পাওয়া যায়। ৭৪১ সংখ্যাটি ১৯ দ্বারা বিভাজ্য (১৯*৩৯=৭৪১)

রহস্যটা যদি এখানেই শেষ হয়ে যেতো!



৩) আপনি যদি সূরা মুদ্দাসসির পরেন তাহলে দেখবেন, এই সূরাটির ১ টি আয়াত বাদে বাকি সব আয়াতগুলো খুব ছোট ছোট। আর এই অস্বাভাবিক আয়াতটা হচ্ছে সূরাটির ৩১ নং আয়াত। একমাত্র এই আয়াতেই ১৯ এর কার্যকারিতা সম্বন্ধে বলা হয়েছে। আয়াতটিতে মোট ৫৭ টি শব্দ আছে। ১৯*৩=৫৭।

রহস্যটা যদি এখানেই শেষ হয়ে যেতো!



৪) ৩১ নং আয়াতটির একটা বাক্য হলো, “ আল্লাহ এর দ্বারা কি বুঝাতে চেয়েছেন?”

(م ا ذ ا    ر و د    ا ل ه     ه ا ذ    م ث ل    ذ ل ك) এই বাক্যটিতে মোট ১৯ টি অক্ষর  আছে।

রহস্যটা যদি এখানেই শেষ হয়ে যেতো!



৫) সূরাটির ১ম  থেকে শুরু করে ৩০ তম  আয়াতে উল্লেখিত "ইহার উপর" ( عَلَيْهَا) শব্দটি পর্যন্ত মোট ৩৬১ টি অক্ষর আছে।

ي

২৮ টি

ا

৫১ টি

ه

১৭ টি

ل

২৯ টি

م

১৯ টি

د

১৫ টি

ث

৯ টি

ر

৩৪ টি

ق

১৫ টি

ف

১৪ টি

ن

১৯ টি

ذ

৮ টি

و

২৪ টি

ب

১৩ টি

ك

১৪ টি

ط

২ টি

ج

৩ টি

ز

২ টি

ت

১৩ টি

س

১১ টি

ص

৩ টি

ع

৮ টি

غ

১ টি

خ

১ টি

ح

৩ টি

ش

৩ টি

ء

১ টি

ظ

১ টি

মোট অক্ষর

৩৬১ টি

N.B.: যে সফটওয়ারে সাহায্য নিয়ে ছিলাম তার Screenshot নিচে দেয়া হলে।


৩৬১ কে ১৯ দিয়ে ভাগ করলে ১৯ পাওয়া যায়। (১৯*১৯=৩৬১)। 

রহস্যটা যদি এখানেই শেষ হয়ে যেতো!



৬) সূরাটিতে অগ্নি অর্থে “সাকার” শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে ২৬, ২৭ ও ৪২ নং আয়াতে। যেগুলোতে বলা হচ্ছে, যারা সুস্পষ্ট নিদর্শন দেখার পরও, কোরআনকে মানুষের উক্তি বলবে, তাদরেকে সাকার বা অগ্নিতে নিক্ষেপ করা হবে। এখন ২৬+২৭+৪২=৯৫, লক্ষনীয় ১৯*৫=৯৫।

রহস্যটা যদি এখানেই শেষ হয়ে যেতো!



৭) সূরাটিতে ক্রমিক নম্বর সহ আয়াত আছে মোট ৫৬টা। আর ক্রমিক নম্বর  ছাড়া  বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আয়াতটি আছে সূরার শুরুতে। তাহলে মোট আয়াত ৫৬+১=৫৭। লক্ষনীয় ১৯*৩=৫৭।

রহস্যটা যদি এখানেই শেষ হয়ে যেতো!



৮) সূরাটিতে  ১ম থেকে ১৯তম  আয়াত পর্যন্ত শব্দ সংখ্যা ৫৭ টি। লক্ষনীয় ১৯*৩=৫৭।

রহস্যটা যদি এখানেই শেষ হয়ে যেতো!


৯) অতি প্রাচীনকাল থেকে গাণিতিক সংখ্যাকে আরবি, গ্রীক, হিব্রু, ভাষার অক্ষরে লেখার প্রচলন ছিল। প্রতিটি অক্ষরের সংখ্যাগত মান ছিল এবং গণনার জন্যে অক্ষরগুলি ব্যবহার হতো। একে আবজদ বলে। 

https://en.wikipedia.org/wiki/Abjad_numerals


সূরাটির ৩০ নং আয়াতের শেষ শব্দ "আশার" অর্থ "উনিশ"।

"আশার" (ع ش ر)  শব্দটির সংখ্যাগত মান ৫৭০ (ع = ৭০+ ش= ৩০০+ ر= ২০০) ।

লক্ষনীয়, ৫৭০  = ১৯* ৩০ ।

রহস্যটা যদি এখানেই শেষ হয়ে যেতো!



১০) ৭৪:৩৫ ("Surely, this is but one of the mighty Signs,") আয়াতটি একটি মিলাকলে দিকে ইংগিত করে। লক্ষনীয়, ৭+৪+৩+৫=১৯।

রহস্যটা যদি এখানেই শেষ হয়ে যেতো!




Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Free PDF documentation generator