9:29,9:73(জবরদস্তি মূলক আয়াত)

Parent Previous Next

৯-২৯

" যারা আল্লাহ্‌তেও ঈমান আনে না ও শেষ [বিচারের] দিনেও বিশ্বাস করে না, যা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূল কর্তৃক নিষিদ্ধ [ঘোষণা] করা হয়েছে, তা নিষিদ্ধ বলে গণ্য করে না, [যদিও তারা কিতাবধারী জাতি তবুও] তারা সত্য দ্বীনকে স্বীকার করে না; তাদের সাথে যুদ্ধ করবে যতক্ষণ না তারা স্ব-ইচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জিজিয়া [কর] দেয় এবং নিজেদের পরাভূত মনে করে "


৯-৭৩

"হে নবী ! অবিশ্বাসী ও মোনাফিকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম [জিহাদ] কর, এবং তাদের প্রতি কঠোর হও। জাহান্নাম হবে তাদের বাসস্থান, উহা কত নিকৃষ্ট আশ্রয়স্থান।"



কোরানে জবরদস্তি মূলক আয়াত আছে।


জবাব:

কোরানে কিছু আয়াত আছে যেখানে বলা হয়েছে , " তোমরা নবীর সামনে উচ্চ স্বরে কথা বলো না বা নবীর অনুমতি ব্যতীত তার গৃহে প্রবেশ করো না।, ইত্যাদি।" এখন আপনি যেভাবেই ভাবুন না কেন , এই সকল নির্দেশ কেয়ামত পর্যন্ত মানা সম্ভব না। কারন নবী মৃত এবং তার গৃহের সন্ধান জানা নেই বা তার অনুমতি নেয়ার ও উপায় নেই।


সূরা ৯ পুরোটাই নবীর জীবদ্দশায় ঘটা বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা ও দিগনির্দেশনা। এই সূরার নির্দেশাবলী প্রায় পুরোটাই নবী , তার স্ত্রীগন, সাহাবী ও তৎকালীন মুনাফেক , কাফের , মুশরেক ও আহলে কিতাবের অনুসারীদের জন্য প্রযোজ্য। কোন সেই কাফের মুশরেক , আহলে কিতাবের অনুসারী , যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর্তে বলা হচ্ছে ? এটা পুরো সূরা পড়লে জানতে পারবেন। এই সুরার কয়েকটি আয়াত দিয়ে দিলাম।


৯:৪ তবে যে মুশরিকদের সাথে তোমরা চুক্তি বদ্ধ, অতপরঃ যারা তোমাদের ব্যাপারে কোন ত্রুটি করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্যও করেনি, তাদের সাথে কৃত চুক্তিকে তাদের দেয়া মেয়াদ পর্যন্ত পূরণ কর। অবশ্যই আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন।


৯:৬ আর মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দেবে, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌছে দেবে। এটি এজন্যে যে এরা জ্ঞান রাখে না।


৯:৭ মুশরিকদের চুক্তি আল্লাহর নিকট ও তাঁর রসূলের নিকট কিরূপে বলবৎ থাকবে। তবে যাদের সাথে তোমরা চুক্তি সম্পাদন করেছ মসজিদুল-হারামের নিকট। অতএব, যে পর্যন্ত তারা তোমাদের জন্যে সরল থাকে, তোমরাও তাদের জন্য সরল থাক। নিঃসন্দেহের আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন।


৯:৮ কিরূপে? তারা তোমাদের উপর জয়ী হলে তোমাদের আত্নীয়তার ও অঙ্গীকারের কোন মর্যাদা দেবে না। তারা মুখে তোমাদের সন্তুষ্ট করে, কিন্তু তাদের অন্তরসমূহ তা অস্বীকার করে, আর তাদের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী।


৯:১০ তারা মর্যাদা দেয় না কোন মুসলমানের ক্ষেত্রে আত্নীয়তার, আর না অঙ্গীকারের। আর তারাই সীমালংঘনকারী।        


৯:১২ আর যদি ভঙ্গ করে তারা তাদের শপথ প্রতিশ্রুতির পর এবং বিদ্রুপ করে তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে, তবে কুফর প্রধানদের সাথে যুদ্ধ কর। কারণ, এদের কোন শপথ নেই যাতে তারা ফিরে আসে।        


৯:১৩ তোমরা কি সেই দলের সাথে যুদ্ধ করবে না; যারা ভঙ্গ করেছে নিজেদের শপথ এবং সঙ্কল্প নিয়েছে রসূলকে বহিস্কারের? আর এরাই প্রথম তোমাদের সাথে বিবাদের সূত্রপাত করেছে। তোমরা কি তাদের ভয় কর? অথচ তোমাদের ভয়ের অধিকতর যোগ্য হলেন আল্লাহ, যদি তোমরা মুমিন হও।        


জিজিয়া মানে অর্থ আদায় নয়।। তারপরেও যদি মেনে নেই এটা বিধর্মী , যুদ্ধে পরাজিতদের উপর ধার্য কর, তাহলে বলব কতটুকু কর আদায় করতে হবে তার কথা কোরানের কোথাও বলা নেই। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় আদি কাল থেকেই যুদ্ধে পরাজিতদের উপর কর ধার্যের রেওয়াজ চলে আসছে, এমন কি আজো দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে পরাজিত জার্মানি ও জাপান যুদ্ধে ক্ষতগ্রস্থদের ক্ষতিপুরন করছে। তাই জিজিয়াকে গরম বলার অবকাশ নেই।

Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Free help authoring tool