আল্লাহর কসম

Parent Previous Next

কোন কথা আস্থাযোগ্য না হলেই মানুষ শপথ করে / কছম কাটে ! তবে কেন আল্লাহকে কুরানে এতোবার কছম কাটতে হলো (Quran 57:1-4, 52:1-6, 53:1, 56:75, 70:40, 74:31-34, 84:16-18, 89:1-4, 92:1-3, 95:1-3 … ইত্যাদি) ?


জবাব :

প্রথমতঃ মানুষ যদি কোন কিছুকে খারাপ বানিয়ে ফেলে, তার মানে এই না যে আল্লাহর জন্য সেটা করাটা খারাপ।

দ্বিতীয়তঃ সেগুলো কসম নয় কারণ আল্লাহর কোন কিছুর কসম কাটার প্রয়োজন নেই। আরবি ওয়াও দিয়ে শুরু করা বাক্যের বহু ধরণের অনুবাদ হয় যেমন – ‘এবং’, ‘তারপর’, ‘কসম’, ‘মনে পড়ে’ ইত্যাদি। বিভিন্ন পরিপেক্ষিতে বিভিন্ন অনুবাদক ওয়াও দিয়ে শুরু করা বাক্যগুলোকে বিভিন্ন ভাবে অনুবাদ করেছেন। কেউ ‘এবং’ বলেছেন, কেউ ‘তারপর’ বলেছেন, কেউ ‘কসম’ বলেছেন ইত্যাদি। আপনি আব্দেল হালিমের অনুবাদ পড়ুন। তার অনুবাদটি এখন পর্যন্ত ভাষা গত দিক থেকে সবচেয়ে সঠিক অনুবাদ। বাকি সকল অনুবাদে বিপুল পরিমাণের ভাষা গত ভুল রয়েছে।

তৃতীয়তঃ আল্লাহর এবং মানুষের মধ্যে কসম করার মধ্যে পার্থক্য আছে। মানুষ কসম করুক আর না করুক কিছুই যায় আসে না, তার মানে না যে আল্লাহ কসম ভাঙলে কিছুই যায় আসে না। সুতরাং, মানুষের কসম করার সাথে আল্লাহর কসম করার তুলনা করাটা হাস্যকর।

চতুর্থতঃ আল্লাহ কসম করেন যখন কোন কিছুর প্রতি তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান। যেমন “ওয়াল আসর” – সময়ের কসম। এখানে পুরো সুরাটাই হচ্ছে সময়ের গুরুত্ব নিয়ে। তাই আল্লাহ সময়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। যদিও এটা কসম নয়। বরং সময়ের প্রতি আল্লাহ আমাদের বিশেষ নজর দিতে বলেছেন। কসম ভুল অনুবাদ।


আবারো, আরবির প্রতি আপনার অজ্ঞতা প্রকাশ পায়। কু’রআনের ভাষা না ভুঝে সে ভাষায় প্রকাশ করা একটি বই নিয়ে তর্ক করা, আর ইংরেজি না জেনে সেক্সপিয়ারের গল্পের মধ্যে ভুল বের করাটা একই ঘটনা।

Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Easily create HTML Help documents