আল্লাহ আর শয়তানের সৃষ্টিতে কি পার্থক্য

Parent Previous Next

মুসলমানরা বলে যে, নাস্তিক, হিন্দু, বৌদ্ধ, খিস্টান, ইহুদী এরা শয়তানের সৃষ্টি, এরা মুলত কাফের মুশরিক ইত্যাদি, ইত্যাদি! আমরা দেখছি যে, কাফের নাস্তিক এবং মুসলমানের মধ্যে দৈহিক গঠন ও কার্যবিধি একই রকম, প্রশ্ন হল আল্লাহ সৃষ্টি মুসলমান আর শয়তানের সৃষ্টি কাফের ইহুদীকিভাবে একই রকম হতে পারে? আল্লাহ আর শয়তানের সৃষ্টিতেকি পার্থক্য থাকল??


জবাব :

কাফের, মুশরিক, হিন্দু, বৌদ্ধ এগুলো কোন গালির নাম নয় এমনকি এগুলো কোন দৈহিক বৈশিষ্ট্যের পরিচয় ও নয়। এগুলো হল মানুষের চরিত্রের নাম তথা ইসলামের পরিভাষা। যেমন কাফের অর্থ ‘অস্বীকার-কারী’, মুশরিক অর্থ ‘অংশীদার-কারী’, ‘নাসারা’ অর্থ সাহায্যকারী, ‘মুসলিম’ অর্থ আনুগত্যা কারী ইত্যাদি। অনেকে এসব পরিভাষার অর্থ না বুঝে এগুলোকে একপ্রকার গালি মনে করে আর ইসলাম বিরোধীরা সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝায়।


ইসলাম কখনও ব্যক্তির সমালোচনা করেনা, ইসলাম সর্বদা ব্যক্তির চরিত্রের কথা বলে। শয়তান শুধু মুসলমানের দুষমন নয় সে পুরা মানব জাতির দুষমন। সে মানুষের উপর জোড় খাটাতে পারেনা তবে সে মানুষকে উত্তেজিত করতে পারে। মানুষের মনে জেদ, গোঁড়ামি, অহংকার, উগ্রতা, হঠকারিতা, হিংসা, বিদ্বেষের আগুনকে উস্কে দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, পথভ্রষ্ট করে। মানুষ ইচ্ছে করলে আল্লাহর দেখানো পন্থায় এসব কাজ থেকে বেঁচে থাকতে পারে। মুসলমানেরা ইসলামের আদেশ নিষেধ মানতে বাধ্য কেননা সে আনুগত্য করেছে। যে মানতে অস্বীকার করে সে কাফির কেননা সে বিরোধিতা করেছে। কেউ আল্লাহর কথাও মেনেছে আবার শয়তানের উৎসাহ দেওয়া কাজও করেছে, সে মুশরিক কেননা সে দুটোকেই বিশ্বাস করেছে এবং কাজে পরিণত করেছে। মূলত মুসলমনা দের মাঝেই অগণিত মুশরিকের অবস্থান।

Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Free help authoring environment