শুকর প্রসঙ্গ

Parent Previous Next

শুকর প্রসঙ্গ!! কোরআনে শুয়োর হারাম করা হয়েছে! কারন, শুয়োর নোংরা, এরমাংস বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করে, মস্তিক বিকৃতি, খোস, পাঁচড়া, চর্মরোগের সৃষ্টি করে! যদি, শুয়োর এতই খারাপ হয়, তাহলে ইহুদী, খিস্টানরা এটা খাওয়ার পরও তাদের যৌনতা হ্রাস পায় না, কিংবা মেধার ওপর প্রভাব পড়ে না কেন, বরং বিজ্ঞানের জয়যাত্রায় তাদের অক্ষুন্ন অবদান! এটা কিভাবে সম্ভব?? আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ বস্তু খেয়ে এত পাওয়ার কোথা থেকে আসে?


জবাব :

শুকরকে হারাম করা হয়নি, দুনিয়াতে তার প্রয়োজন আছে বলে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে! প্রকৃত কথা হল শুকরের গোশতকে ‘হারাম’ করা হয়েছে। প্রশ্ন কর্তা কোরআনের কথা বলে একটি কারণও উল্লেখ করেছে! এটি প্রশ্ন কর্তার কথা, তবে কোরআন শুকরের গোশত হারামের কারণ বলে কোন ধরনের ব্যাখা নাই!


আল্লাহ যা হারাম করেছে, মুসলমানের তা বিনাবাক্য ব্যয়ে মেনে নিতে বাধ্য। মুসলমানেরা বিশ্বাস করে যে, ‘আল্লাহ যেটা হারাম করেছে সেটাতে নিশ্চয়ই অকল্যাণ রয়েছে’। প্রাণীর রক্ত খাওয়া হারাম, আল্লাহর নামে জবেহ না হলে সেটা পবিত্র হলেও হারাম, ঘুষ হারাম, সুদ হারাম, খুন হারাম, মা-দাদীকে বিয়ে করা হারাম। আরও বহু হারাম আছে। এগুলো কেন হারাম সে ব্যাখ্যা কেউ দেয়না, কেউ চায়না। কেননা সেটা আল্লাহ প্রদত্ত সীমা।


তবে কিছু উৎসাহী মানুষ আছে, যারা চিন্তা ভাবনা করে এই মানদণ্ডে যে, আল্লাহ যেটা হারাম করেছেন সেটাতে মানুষের অকল্যাণ আছে, তাই তারা নিজেরা উৎসাহী হয়ে চিন্তা-ভাবনা-ব্যাখ্যা করে ও দেখতে চেষ্টা করেন যে সমস্যা কোথায়? বিজ্ঞান শুকরের গোশতের বহু সমস্যা ইতিমধ্যে উৎঘাটন করেছে, যেগুলো অনেক চিত্তাকর্ষক।


শুকরের পেটে জীবাণু বহন করার জন্য আলাদা একটি থলেই থাকে, শুকর কারো সংস্পর্শে আসলেই এসব জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। শুকরের গোশতে প্রচুর পরিমাণ ফিতা কৃমি থাকে। এসব কৃমি ২৬ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। তার মাথা ব্লেডের মত ধারাল, ফলে সে প্রাণীর পেট, অন্ত্র, কলিজা, অম্লানয়, ফুসফুস সহ সকল যাবতীয় অঙ্গ ভেদ করে ছুটতে থাকে। এমনকি চোখ কেটে বাহিরে বের হয়ে পড়ে! ফিতা কৃমি কাটা পড়লে দুটি কৃমির সৃষ্টি হয় এভাবে যত কাটা যাবে ততটি নতুন ফিতার সৃষ্টি হবে। শুকরের গোশতের কোন একটি টুকরা কেউ খেলে তার দেহেও ফিতা কৃমি ছড়িয়ে পড়বে। বলা বাহুল্য চুলার আগুনের গরমে গোশত ঝলসে গেলেও ফিতা কৃমি ঠিকই বেঁচে থাকে, পেটে গেলেই সে সতেজ হয় উঠে। কারো পেটে একবার ফিতা ঢুকলে না মরা পর্যন্ত তার রেহাই নাই। কেননা ফিতা বের করতে হলে তার পুরো শরীরকে টুকরা টুকরা করে অপারেশন করতে হবে। পাহাড়ি মানুষ আকৃতিতে খাটো হবার একমাত্র কারণই হল এই ফিতাকৃমি সহ অন্যান্য কৃমির উপদ্রব। আরও বহু বহু উদ্ভট তথ্য রয়েছে বিজ্ঞানের থলেতে।


এসব বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে, মুসলমানেরা এসব তথ্য গ্রহণ করে সান্ত্বনা পেয়েছে এই বলে যে, আল্লাহ যা হারাম করেছে তা তার কল্যাণের জন্যই করেছে। শুকরের গোশতে খেলে হয়ত সাথে সাথে মানুষ মরেনা, তবে উপরে বর্ণিত শুকরের যে গুনাগুণ বর্ণনা করা হল, তা কি জ্ঞানবান, সচেতন, ভদ্র মানুষ জেনে বুঝে গ্রহণ করতে পারে! গ্রহণ করলে করুক, তাতে অন্যের কিছু আসে যায় না। কেননা কিছু হঠকারী মানুষ এমন আছে, যারা গোঁ ধরে এভাবে যে, ‘ইসলাম মদ পান করতে মানা করেছে আমি পান করবই, শুকর খেতে নিষেধ করেছে সুতরাং পুরা জীবন শুকরের গোশত খেতেই থাকব, তাতে আমার শরীরের যত ক্ষতিই হোক’।

Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Easily create EPub books