কাফেররা, বর্তমানে ধন সম্পদে শক্তিকে এত বলিয়ান

Parent Previous Next

অতএব, যারা কাফের হয়েছে তাদেরকে আমি কঠিন শাস্তি দেব এই দুনিয়াতে এবং তাদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না।(কোরান ৩:৫৬) তাহলে কাফেররা, বর্তমানে ধন সম্পদে শক্তিকে এত বলিয়ান কেন? আল্লাহর বাণী কি এখানে মিথ্যা নয়? সয়ং সৌদিকেই নিয়ন্ত্রণ করছে আমেরিকা? তাহলে কি আল্লাহ মুসলিমদের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন??


জবাব :

প্রথমে কোরআনের নামে ভুল উদ্ধৃতি দিয়েছেন, সেখানে বলা হয়েছে,


‘আর যারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তাদের জন্য তো জাহান্নামের প্রজ্বলিত আগুনই যথেষ্ট ৷ যারা আমার আয়াতগুলো মেনে নিতে অস্বীকার করেছে তাদেরকে আমি নিশ্চিতভাবেই আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করবো....... আল্লাহ বিপুল ক্ষমতার অধিকারী এবং তিনি নিজের ফায়সালাগুলো বাস্তবায়নের কৌশল খুব ভালোভাবেই জানেন'।


এই আয়াতের কোথাও দুনিয়াতে শাস্তি দিবে এমন কোন ঘোষণা নাই, ভুল উদ্ধৃতি দিয়ে ভুল ব্যাখা করাও তো সত্য উপলব্ধি থেকে দুরের থাকার নামান্তর। যাক, কোরআনে এমন কোথাও দাবী করে নাই যে, মুসলমান হলে তোমরা ধন-দৌলতে ধনী হয়ে উঠবে। বরং এমন বলা হয়েছে, এই ধন-দৌলতের মোহেই তোমরা পথ ভ্রষ্ট হবে। তবে অন্যত্র বলা হয়েছে তোমরা বিজয়ী হবে, তোমরা শান্তি পাবে, তোমরা পরিতৃপ্ত হবে ইত্যাদি।


এবার ধন সম্পদের কথায় আসি, দুনিয়ার একটা নীতি হল


পরিশ্রম করলে ধন আসবে,


এবাদত করলে শান্তি আসবে,


প্রাচুর্য থাকলে সুখ আসবে,


অহংকার থাকলে পতন আসবে,


এই কথাগুলো মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, নাস্তিক সবার জন্য প্রযোজ্য। ইউরোপের মানুষ ধনী হয়েছে নিজেরা পরিশ্রম করেছে বলে, তারা খৃষ্টান হবার কারণে ধনী হয়নি। ভারতের হিন্দু ও বাংলাদেশের মুসলমানেরা গরীব হয়েছে হিন্দু মুসলিম হবার কারণে নয়। তারা গরীব হয়েছে তাদের মেধাকে যথাযথ কাজে না লাগানোর জন্য। ইহুদী, খৃষ্টান, মুসলিম সহ পৃথিবীর কোন ধর্ম গ্রন্থই দাবী করেনা যে, আমাকে অনুসরণ করলে ধনী হয়ে উঠবে। বরং প্রতিটি ধর্ম গ্রন্থ দাবী করেছে ‘দুনিয়াতে শান্তি মিলবে মৃত্যুর পরে মুক্তি মিলবে’। কে কাকে নিয়ন্ত্রণ করবে, সেটা তার যোগ্যতা দক্ষতার উপরে নির্ভর করবে। আল্লাহ আহ্লাদে পড়ে মুসলমানদেরকে অন্য জাতির উপর প্রতিষ্ঠিত করবেন এমন ওয়াদা কোরআনের কোথাও করা হয়নি!

Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Full-featured Help generator