কোরআনের ভবিষ্যতবানি

Parent Previous Next

কোরআনের ভবিষ্যতবানি :


১. মক্কার কাফেরদের অত্যাচারে টিকতে না পেরে আল্লাহ তায়ালার আদেশে মুহাম্মদ (স মদিনায় হিযরত করেন। মদিনায় তিনি ও তার সাথিরা এতোটা নি:স্ব অবস্থায় পৌছান যে উনাদের মাথা গোজার ঠাই না থাকায় খোলা ছাপরার মদ্ধে দিন পার করছিলেন। এ কারনেই ওনারা আসহাফে সুফফা নামে পরিচিত হয়ে উঠেন। তার উপর ছিল কাফেরদের আক্রনের ভয়। এমনি ভায়ানক পরিস্থিতিতে আল্লাহ তায়ালা ওহী পাঠালেন-

“তুমি মসজিদুল হারামে নিরাপদভাবে প্রবেশ করবে, সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় কোন ভয় ছারা। তোমার মস্তক মুন্ডিত অবস্থায় এবং কেশ কর্তিত অবস্থায়। তিনি যানেন তোমরা যা জান না। এবং আদেশক্রমে এই জায়গায় তোমাদেরই জয় হবে।” (সুরা ফাতাহ:২৭)


সত্যি সত্যি কিছু কালের মদ্ধেই সমগ্র আরব ভূ-খন্ড আল্লাহর রাসূলের অধিকারে এসে গেল, আর মুহা্ম্মদ (স মক্কায় প্রবেশ করলেন কোন বাধা ছারাই। সামান্য কয়েকজন নি:স্ব গরীব লোক, ঐ সমস্ত লোককে অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে পরাজিত করল, যারা সংখ্যায় ছিল অধিক, সময় ও পরিবেশ ছিল যাদের অনুকুলে এবং যাদের কাছে ছিল উন্নত সমরাস্ত্র ও ধন-সম্পদের প্রাচুর্য।


২. কোরআনের আর একটি ভবিষ্যতবানী, যার উল্লেখ আমি এখানে করতে চাই তাহলো- ইরানীদের উপর রোমানদের বিজয়।

“রোমানরা পরাজিত হয়েছে, সবকিছু নিচু জায়গায় এবং তারা পরাজয়ের পর বিজয়ী হবে এবং কিছু বছরের মদ্ধেই। অগ্র পশ্চাতের কাজ হাতেই, সেদিন মুমিনরা আনন্দিত হবে।” (সূরা রুম:২-৩)

এই আয়াতগুলো নাযিল হয় ৬২০ সনে। তখন রোমান অর্থাৎ বাইজেন্টাইনরা, ইরান বা পারস্য শক্তির কাছে পরাজিত হয়ে নিজেরা এতটাই দূর্বল হয়ে পরেছিল যে নিজেদের অস্তিত্ব টিকবে কিনা এই নিয়ে শংসয় চলছিল। উক্ত আয়াত নাজিল হওয়ার ঠিক ৭ বছর পর ৬২৭ সনে রোমানরা অবিশ্বাস্যভাবে ইরানীদের পরাজিত করে। সত্যি প্রমাণিত হয় কোরআনের ভবিষ্যতবাণী। আর একটি বিষয় খুবি চাঞ্চল্যকর। বলা হয়েছে “রোমানরা পরাজিত হয়েছে, সবচেয়ে নিচু জায়গায় (Adna al-ard পৃথিবীর নিম্নতম স্থান)। – রোমানরা ইরানীদের কাছে যে জায়গায় পরাজিত হয় সেটা হল ডেড সি বেসিন। এটি কি সত্যি পৃথিবীর নিম্নতম স্থান ?


আজকে বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, পৃথিবীর নিম্নতম স্থান হল ডেডসি বেসিন, এই স্থানটি সমুদ্রতল থেকে মিটার নীচে অবস্থিত। পূর্বে নিশ্চয়ই এটি জানা অসম্ভব ছিলো যে, এটিই পৃথিবীর সবচাইতে নিচু জায়গ। মহানবী (স এই জাযগাটির গভীরতা কি দিয়ে পরিমাপ করেছিলেন ?


৩. কোরআনের ভবিষ্যতবানীর আরেকটি দৃষ্টান্ত সূরা কাওসার। বিশ্বনবী (সএর পুত্র সন্তান মারা যাওয়ায় এবং তার দ্বিতীয় কোন জীবিত পুত্র সন্তান না থাকায় কোন কোন অজ্ঞ মুশরিকরা বলত, মুহাম্মদ (স এর বংশ নিশ্চিহৃ হয়ে গেছে। যে লোকটি রাসূল (স কে ‘আবতার’ বা বংশহীন বলে উল্লেখ করত পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক তাকেই ‘আবাতার’ বলে উল্লেখ করেছেন।বাস্তবেও হয়েছে তাই। লোকটির সন্তানাদি থাকা সত্বেও দু্ই প্রজন্ম পরই তার বংশ নিশ্চিহৃ হয়ে যায়। কিন্তু বিশ্বনবী (স এর পবিত্র বংশধারা (আওলাদে রাসূল) তার কণ্যা হযরত ফাতেমা (রা এর মাধ্যমে অব্যাহত থাকে এবং তা আজো অব্যাহত রয়েছে। পবিত্র বৃক্ষের মত এর শাখা-প্রশাখা আজো ক্রমবর্ধমান। মহান আল্লাহ পাক সূরা কাওসারে বলেছেন, “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওসার (তথা ব্যাপক কল্যাণ ও বরকত) দান করেছি। অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নাময পড়ুন এবং কোরবানী করুন। যে আপনার শত্রু, সেই তো লেজকাটা, নির্বর্শ।”


৪. ফেরাউনের লাশ সংরক্ষন :

কোরআনে আছে ফেরাউন ডুবে মারা গেছে আর মৃত্যুর পরও তার শরীর অক্ষত রাখা হবে, পরবর্তি সীমালংঘনকারীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে।

“বনী ইসরাইলকে আমি পার করে দিয়েছি নদী, অত:পর তাদের পশ্চাদ্ভাবন করেছে ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনী, দুরাচার ও বাড়াবাড়ির উদ্ধেশ্যে, এমনকি যখন তারা ডুবতে আরম্ভ করলো, তখন বলল, এবার বিশ্বাস করে নিচ্ছি কোন মাবুদ নেই তিনি ছাড়া যার ইবাদত করে বনী ইসরাঈলরা। অতএব আজকের দিনে রক্ষা করছি আমি তোমার দেহকে যাতে তা তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পারে। নি:শন্দেহে বহু লোক আমার মহাশক্তির প্রতি লক্ষ্য করে না।” (সূরা ইউনুস:৯২)।

ঐতিহাসিকগণ ১৮৯৮ সালে ফেরাউনের লাশ উদ্ধার করেন। যা আজ মিশরের কায়রোতে দ্যা রয়েল মমী হলে একটি কাচের সিন্দুকের মধ্যে রয়েছে। এর দৈর্ঘ ২০২ সেন্টিমিটার। ৩১১৬ বছর পানির নীচে থাকা সত্ত্বেও তার লাশে কোন পচন ধরে নি। এটা কি মোটেও যৌক্তিক ? মুহাম্মদ (স এর যুগের আরব জাতি ও অন্যরা মিশরীয়দের মধ্যে, ফেরাউনের পানিতে ডুবে মারা যাওয়া কিংবা তার লাশ যে সংরক্ষিত হবে এরকম ভবিষ্যতবানী করা এবং তা মিলে যাওয়া এক কথায় অসম্ভব।

Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Free EBook and documentation generator