১৯তম অক্ষর ক্বাফ

Parent Previous Next

১৯তম অক্ষর ক্বাফ :


ক্বাফ অক্ষরটি সংখ্যাগত মানের দিক থেকে আরবী বর্ণমালার ১৯তম অক্ষর।

(আলিফ, বা, তা, ছা, জ্বিম, হা, খা, দাল, জাল, রা, ঝা, ছিন, সিন, সোয়াদ, দোয়াদ, ত্বো, জো, আইন, গইন, ফা, ক্বাফ)

যেহেতু ১৯ নাম্বার অক্ষর, তাই এটার মধ্যেও নিশ্চয়ই মিরাকল থাকবে—

ক. কোরআনের সকল সূরার ১৯ নং আয়াতগুলোতে ক্বাফ অক্ষরটি এসেছে মোট ৭৬ বার। ৭৬ কে ১৯ দ্বারা ভাগ করা যায়। ৭৬/১৯=৪।


খ. কোরআনে যেসব সূরার অবস্থানকে ১৯ দ্বারা ভাগ করা যায়, ঐ সকল সূরায় ক্বাফ এসেছে মোট ২২৮ বার। যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য।

১৯ ৩৮ ৫৭ ৭৬ ৯৫ ১১৪ মোট

৮৬ ৭৪ ৪৯ ১৫ ৩ ১ ২২৮

১৬. এটাই শেষ আর লিখবো না—–

হা-মিম এই দুটি অক্ষর দিয়ে শুরু হয়েছে কোরআনের ৭ টি সূরা। এগুলো হলো ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫ ও ৪৬ নং সূরা। সূরাগুলোতে হা ও মিম এই অক্ষর দুটি এসেছে এভাবে

সূরা নং হা মিম ডিজিট গুলোর যোগফল মোট ডিজিট

৪০ ৬৪ ৩৮০ ৬+৪+৩+৮+০ ২১

৪১ ৪৮ ২৭৬ ৪+৮+২+৭+৬ ২৭

৪২ ৫৩ ৩০০ ৫+৩+৩+০+০ ১১

৪৩ ৪৪ ৩২৪ ৪+৪+৩+২+৪ ১৭

৪৪ ১৬ ১৫০ ১+৬+১+৫+০ ১৩

৪৫ ৩১ ২০০ ৩+১+২+০+০ ৬

৪৬ ৩৬ ২২৫ ৩+৬+২+২+৫ ১৮

মোট ২৯২ ১৮৫৫ ১১৩

মোট হা-মিম =২১৪৭ (১৯*১১৩)!!! মোট ডিজিট = ১১৩।

শুধু এই নয়- যদি আমরা সূরাগুলোকে দুটি গ্রুপে ভাগ করি; এভাবে ৪০,৪১,৪২ এক গ্রুপে আর বাকী চারটি আরেকগ্রুপে, তাহলে প্রতি গ্রুপে হা-মিমের মোট সংখ্যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য পাওয়া যাবে। আর উপরের টেবিলের মতই ডিজিটগুলোর মোট যোগফল, হা-মিমের মোট সংখ্যাকে ১৯ দিয়ে ভাগ করার পর যা থাকে তার সাথে মিলে যাবে!!!

হা-মিম, ১১২১ (১৯*৫৯) ও ১০২৬ (১৯*৫৪)টি। ডিজিটের যোগফল, ৫৯ ও ৫৪।

রাব্বুল আলামিন তার সব সৃষ্টির মধ্যেই, এরকম সামঞ্জস্য বজায় রেখে সৃষ্টি করেছেন। কেউ কেউ তা চোখ খুলে দেখেনা, ফলে বুঝেনা।



আল্লাহ পাক কোরআনকে ১৯ সংখ্যাটির গানিতীক কোড দিয়ে সতর্কতার সাথে নাজিল করেছেন। আর দুটি উদাহরণ দেই, ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে।

ক. আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বারটি জয়গায় লুত সম্প্রদায়ের কথা উল্যেখ করেছেন। এবং প্রতিবার তিনি তাদের সম্বোধন করেছেন “কওমে লুত” বলে। কিন্তু সূরা ক্বাফ এর ১৩ নং আয়াতে তিনি লুত সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে “ইখওয়ানুল লুত: বলেছেন; আর্থেল দিকে থেকে উভয়টাই সমান। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাহলে কেন এখানে “ক্বওমে লুত” শব্দটি ব্যাবহার করলেন না ?

কারণ এই সূরাতে এখানে “কওমে লুত” ব্যাবহার হলে এই সূরাতে “ক্বাফ” অক্ষরটির সংখ্যা ৫৮ হয়ে যেতো, যেটাকে ১৯ দ্বারা ভাগ করা যায় না। সে জন্য একই অর্থবোধক “ইয়াখওয়ানুল লুত” ব্যাবহার করে ক্বাফ এর সংখ্যা এই সূরাতে ৫৭ রাখা হয়েছে, যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য।

থ. সূরা কাহফের ২৫ নং আয়াতটিতে ৩০৯ বছর বুঝানো হয়েছে এভাবে “ওরা গুহার ভিতরে ছিল ৩০০ বছর, তারা এর সাথে যোগ করেছে আরো ৯ বছর।”

আবার নূহ (আ এর সাথে সম্পর্কিত ৯৫০ সংখ্যাটি বলতে গিয়ে কোরআন ১০০০ ও ৫০ এর সাহায্য নিয়েছে এভাবে “১০০০ থেকে ৫০ বাদ দিলে যা হয়।”

এখন প্রশ্ন হলো আল্লাহ তায়ালা কি পারতেন না, এভাবে প্রকাশ না করে সংখ্যাগুলিকে সরাসরি প্রকাশ করতে ? অথবা কেন তিনি এমন পদ্ধতি ব্যাবহার করলেন ?

কারন ৯৫০ কে সরাসরি “৯৫০” লিখলে বা ৩০৯ কে সরাসরি “৩০৯” এভাবে লিখলে, কোরআনে যে সংখ্যাগুলি পাওয়া যাবে তাদের যোগফলকে ১৯ দ্বারা ভাগ করা যাবে না!

এভাবে কোরআন এর প্রতিটি আয়াত, এমনকি প্রতিটি শব্দ ১৯ এর গানিতিক রহস্যে সাজানো। একটি শব্দের হেরফের করা সম্ভব নয়। কি চমৎকার আর যৌক্তিক মহান প্রভুর নিদর্শণ!

Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Easily create EPub books