ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ

Parent Previous Next

নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, ইত্যাদি দেশগুলো 'নাস্তিক-অধ্যুষিত' হওয়া সত্ত্বেও সেই দেশগুলোতে আস্তিক-অধ্যুষিত দেশগুলোর চেয়ে অপরাধের হার অনেক কম। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে এই দেশগুলোর অবস্থানও প্রথম সারিতে। কাজেই ধর্ম তোমাদেরকে কোনো রকম নৈতিকতা শিক্ষা দিতে পারেনি! এবার তোমরা ইসলাম ত্যাগ করে আমার ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে যাও।


জবাব:


প্রথমত- একজন স্বঘোষিত নাস্তিক হিসেবে নাস্তিক-অধ্যুষিত দেশের উদাহরণ দিতে গেলে প্রথমেই ভিয়েতনাম ও উত্তর কোরিয়ার নাম আসা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, ও ডেনমার্ক-এর মতো ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ দেওয়া হয়। অথচ ইউরোপের কোনো দেশই 'নাস্তিক-অধ্যুষিত' নয়। উইকিপিডিয়া থেকে নিচে পরিসংখ্যান দেখুন (ডান পাশের কলাম)-





উপরের চার্ট অনুযায়ী ইউরোপের কোনো দেশেই পঞ্চাশ ভাগের বেশী নাস্তিক নাই। ফ্রান্সে সর্বোচ্চ ৪০% এবং সুইডেনে ৩৪% নাস্তিক দেখানো হলেও উইকিপিডিয়ার অন্য একটি তথ্য অনুযায়ী ফ্র্যান্সে ২৭% এবং সুইডেনে ২৩% নাস্তিক আছে।

দ্বিতীয়ত- ইউরোপের উন্নত দেশগুলো খ্রীষ্টান-অধ্যুষিত হওয়াতে চার্চ ধর্মের কিছু অসারতার কারণে অধিকাংশ খ্রীষ্টান চার্চে যায় না। কিন্তু চার্চে না যাওয়া মানে এই নয় যে, তারা সকলেই নাস্তিক হয়ে গেছে। চার্চে না গেলেও তারা নিজেদেরকে খ্রীষ্টান দাবি করে। তাছাড়া যারা নিজেদেরকে নাস্তিক দাবি করে তাদের মধ্যেও পারিবারিক-সূত্রে যীশুর কিছু মৌলিক শিক্ষা রয়ে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক, আর যীশু তথা ঈশা (আঃ) হচ্ছেন ইসলামের একজন নবী।

তৃতীয়ত- সুইডেন-নরওয়ে'র লোকজনের মধ্যে অপরাধের মাত্রা কম হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে কম জনসংখ্যা ও উন্নত সিস্টেম, যে সিস্টেমের মধ্যে কেউ অপরাধ করতে চাইলেও সহজে পারবে না। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ইউরোপের উন্নত দেশগুলো যদি সত্যি সত্যি নাস্তিক-অধ্যুষিত হয় এবং সেই দেশগুলোতে যদি সত্যি সত্যি অপরাধের হার অনেক কম হয়, তাতে মুক্তমনা ধর্মের গুরুজীর নাচানাচি করার কী আছে? বেল পাকিলে তাতে কাকের কী! সে নিজে তো একাধারে জাত ভণ্ড, জাত মিথ্যাবাদী, ধূরন্ধর, আপাদমস্তক ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী। সভ্য সমাজে এগুলোর সবই অপরাধের মধ্যে পড়ে। তার সীমার মধ্যে যে অপরাধগুলো করা সম্ভব, সেগুলোর সবই সে করেছে।

চতুর্থত- বাংলা অন্তর্জাল থেকে দশজন সু-পরিচিত ইসলামে বিশ্বাসী ও দশজন নাস্তিকের লেখাগুলো তুলনা করলে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই নাস্তিকদের লেখায় মিথ্যাচার, ভণ্ডামি, প্রতারণা, আর ঘৃণা-বিদ্বেষ তথা অনৈতিকতার পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেশী হবে। অথচ তারাই আবার সুইডেন-নরওয়ে'র লোকজনের নৈতিকতাকে 'আদর্শ' ধরে নিয়ে মুসলিমদেরকে নৈতকতার উপর ছবক দিচ্ছে। এরা বুঝাতে চাচ্ছে যে, ইসলামে বিশ্বাসের কারণে মুসলিমরা অনৈতিক ও অপরাধপ্রবণ হচ্ছে। প্রমাণস্বরূপ মুসলিম নামধারী জঙ্গি-সন্ত্রাসী ও বাংলাদেশ-পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মতো কিছু দেশের দূর্নীতির পরিসংখ্যান দেখানো হচ্ছে। কাজেই মুসলিমদেরকে সুইডেন-নরওয়ে'র লোকজনের মতো নাস্তিক বা নিধর্মী হতে হবে, যদিও "আমাদের মতো নাস্তিক বা নিধর্মী হতে হবে" বলার মতো সৎ-সাহস তাদের নাই! এই ভণ্ডরা সুইডেন-নরওয়ে'র মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে মনকলা খাচ্ছে আর মুসলিমদের দিকে থুতু ছিটাচ্ছে।

এবার নাস্তিক-অধ্যুষিত প্রথম সারির দুটি দেশ ভিয়েতনাম ও উত্তর কোরিয়ার উপর কিছু পরিসংখ্যান দেখা যাক:

– হিউম্যান ডিভেলপমেন্ট ইনডেক্স (HDI) অনুযায়ী ভিয়েতনাম ও উত্তর কোরিয়ার অবস্থান যথাক্রমে ১২৭ ও ১৫৬।

– ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অনুযায়ী দূর্নীতির (CPI) দিক দিয়ে ভিয়েতনাম ও উত্তর কোরিয়ার অবস্থান যথাক্রমে ১১৬ ও ১৭৫ (সর্বনিম্নে)।

– ভিয়েতনামী ও উত্তর কোরিয়ানদের বাৎসরিক ইনকাম যথাক্রমে ৩,৫০০ ও ৪,০৫৮ ডলার।

– ভিয়েতনাম ও উত্তর কোরিয়ার ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো নোবেল লরিয়েট কিংবা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী বা আবিষ্কারক বা দার্শনিকের নাম শোনা যায়নি।

মুক্তমনা ধর্মের গুরুজী পশ্চিমা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোকে 'ধর্মের ভাই' বানিয়েছে কেন, তার কারণ ইতোমধ্যে পরিষ্কার নিশ্চয়।

৩. অনেকেই হয়তো জানেন যে, বৌদ্ধ ধর্মে স্রষ্টার কোনো ধারণা নাই। আর যে ধর্মে স্রষ্টার কোনো ধারণাই নাই, সেই ধর্মের অনুসারীরা স্বাভাবিকভাবেই নাস্তিক কিংবা আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী বড়জোর অজ্ঞেয়বাদী হিসেবে বিবেচিত হবে। শতকরা হিসাবে বৌদ্ধ-অধ্যুষিত (>৫০%) প্রথম সারির সাতটি দেশ হচ্ছে কম্বোডিয়া (৯৩-৯৬%), থাইল্যান্ড (৯৩%), মায়ানমার (৮০%), ভুটান (৭৫%), শ্রীলঙ্কা (৭০%), লাওস (৬৭%), ও মঙ্গোলিয়া (৫৩%)। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, হিউম্যান ডিভেলপমেন্ট ইনডেক্স, দূর্নীতির ইনডেক্স, ও বাৎসরিক ইনকামের কোনোটাতেই এই দেশগুলোর কোনো একটিও প্রথম সারিতে নেই। এই সাতটি দেশের কোনো একটি থেকেও বিজ্ঞানে নোবেল লরিয়েট কিংবা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী বা আবিষ্কারকের নাম শোনা যায় না।

উপসংহার: এই লেখায় তথ্য-উপাত্তসহ দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে যে- বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, হিউম্যান ডিভেলপমেন্ট ইনডেক্স, দূর্নীতির ইনডেক্স, ও বাৎসরিক ইনকামের দিক দিয়ে নাস্তিক, হিন্দু, ও বৌদ্ধ-অধ্যুষিত দেশগুলোর অবস্থান মোটামুটি নিচের সারিতে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একেবারে তলানিতে। ব্যতিক্রম নাই বললেই চলে, থাকলেও উল্লেখযোগ্য কিছু না। উল্লেখ্য যে, এই লেখায় মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলোর সাথে কোনো রকম তুলনামূলক আলোচনা করা হয়নি। মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলো সম্পর্কে 'মুক্তমনা'রূপী ছুপারা তো দীর্ঘদিন ধরে বলেই আসছে। তবে তুলনা করতে চাইলেও সমস্যা নাই। হিউম্যান ডিভেলপমেন্ট ইনডেক্স, দূর্নীতির ইনডেক্স, ও বাৎসরিক ইনকামের দিক দিয়ে মুসলিম-অধ্যুষিত কিছু দেশ ভালোই এগিয়ে আছে। কিন্তু নাস্তিকরূপী পরগাছারা ইতিহাসের একটি সন্ধিক্ষণে বসে সুযোগ বুঝে পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশগুলোকে 'ধর্মের ভাই' বানিয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ও আফগানিস্তানকে 'মুসলিম দেশ' হিসেবে দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মনকলা খাচ্ছে আর মুসলিমদের দিকে থুতু-বিষ্ঠা নিক্ষেপ করছে। এজন্য এই লেখায় ছুপা নাস্তিকদের ভণ্ডামী উন্মোচন করার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র।

Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Easy CHM and documentation editor