সুরা আ'বাসা(৮০)

১৮.তিনি তাকে কি থেকে সৃষ্টি করেছেন?

১৯.তিনি তাকে শুক্র থেকে সৃষ্টি করেন,


শুধু শুক্রাণু থেকে মানুষ তৈরী হতে পারেনা।শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উভয়েরই প্রয়োজন হয়।অথচ উপরের আয়াত বলছে মানুষকে শুক্র থেকে তৈরী করা হয়েছে।কোরানের কোথাও আপনি ডিম্বাণুর উল্ল্যেখ পাবেননা।(যদিও জাকের নায়েক যেকোন দিন পেয়েও যেতে পারে!!)এটা তখনই সম্ভব যখন কোরান একজন মানুষের রচনা হয়।কোরান আল্লার বাণী হলে সেখানে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উভয়ের কথাই থাকতো।



জবাব :


নুত্বফাতুন=(অর্থ) পরিচ্ছন্ন পানি, স্ত্রী বা পুরুষের বীর্য ( আল -কাওসার- আধুনিক আরবী বাংলা অভিধান- মদীনা পাবলিকেশান্স)

(৮০:১৯) আর্থ- বীর্য (ডিম্বাণূ/শুক্রাণূ) থেকে তাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে সুপরিমিত করেছেন।


(৮০:১৮) নং আয়াতের দিকে লক্ষ করলে দেখা যায়- এখানে মানুষকে প্রশ্ন করা হচ্ছে যে, তাকে কি রকম 'জিনিস বা বস্তু বা কিছু' থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে?

এর পরের (৮০:১৯) নং আয়াতেই উত্তর দেয়া হলো- নুত্বফাতিন অর্থাৎ (পুরুষ/নারীর) বীর্য থেকে এবং এই 'নুত্বফাতুন' এমন কিছু যা থেকে তাকে (মানুষকে) সুপরিমিতভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে।


(৫৩:৪৬)নং আয়াতের মত (৮০:১৯) নং আয়াতে 'নুত্বফাতিন' এর সাথে এমন কোন বিশেষণ জুড়ে দেয়া হয়নি যে এটাকে শুধুমাত্র পুরুষের শুক্রাণূ বলা যায়। তাই এখানে 'নুত্বফাতিন' এর অর্থ ডিম্বাণূ এবং শুক্রাণূ দুটোই ধরে নিতে হবে। কারন ডিম্বাণুর সাথে শুক্রাণূ মিলে প্রথমত ৪৬টি ক্রমোজমের অধিকারী একটি সুষম মানবকোষ সৃষ্টি করা হয় এবং এর মধ্যকার সংকেত অনুসারে ধীরে ধীরে (স্ত্রী/পুরুষ) মানুষটি সুপরিমিতভাবে পরিগঠিত হতে থাকে।


সুতরাং দেখা যাচ্ছে এখানে স্রষ্টা মহান আল্লাহতায়ালা যে আরবী শব্দ ‘নুতফাত্বিন’ ব্যবহার করেছেন প্রকৃত অর্থে এটি কোন লিঙ্গ নির্দেশ করেনা। এ আয়াতে সন্তান জন্মের জন্য যে ‘নুতফাত্বিন’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে প্রকৃত অর্থে এটি দ্বারা স্ত্রী/পুরুষের বীর্য অর্থাৎ X এবং Y ক্রমোজম বহনকারী 'শুক্রাণু ও ডিম্বাণূ' উভয়কেই নির্দেশ করে। মানুষ সৃষ্টির জন্য স্ত্রীর-ডিম্বাণু ও পুরুষের-শুক্রণূ দুটোই যে অপরিহার্য সে তথ্যটাই এখানে স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে।




 

Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Easily create Web Help sites