'আল্লাহ ১'– এর গাণিতিক অর্থ


"কোনো ইলাহ নেই আল্লাহ ছাড়া " আরবিতে “লা ইলাহা, ইল্লাল্লাহ”-এ বাক্যে দুটি অংশ রয়েছে।


“লা ইলাহা” অর্থ হলো “কোনো ইলাহ নেই”।

এবং “ইল্লাল্লাহ” অর্থ হলো আল্লাহ ছাড়া।


সুতরাং “লা ইলাহা” এর মান হলো [০] শূন্য।

এবং ‘ইল্লাল্লাহ’ এর মান [১] এক।


এখানে দেখুন,

বাক্যটির প্রথম অংশের মান [০] শূন্য,

এবং পরের অংশের মান [১] এক।


সুতরাং সম্পূর্ণ বাক্যটির মান [০১] বা এক। কিন্তু বাক্যটির প্রথম অংশের মান যদি [১] হত, এবং পরবর্তী অংশের মান যদি [০] শূন্য হত, তাহলে সম্পূর্ণ বাক্যটির মান [১০] হয়ে যেত।


আল্লাহ যেহেতু এক, তাই এ বাক্যের মান ১০ হয়ে গেলে বাক্যটি সংখ্যাগতভাবে শুদ্ধ ও সঠিক হত না। কিন্তু এখন আমরা দেখতে পারছি, বাক্যটি সংখ্যাগতভাবে সম্পূর্ণ সঠিক।

 যদি “আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই” এভাবে বলা হত, তাহলে বাক্যটি সংখ্যাগতভাবে ভুল হয়ে যেত।




নাস্তিকরা “লা ইলাহা” বলে কিন্তু “ইল্লাল্লাহ” বলে না। অর্থাৎ, তারা [০] শূন্যকে স্বীকার করলেও [১] এক’কে স্বীকার করে না।



সংখ্যার জগতে [০] শূন্য খুবই সমস্যাজনক একটি সংখ্যা।

যেমন ধরুন, পাঁচের সাথে শূন্য গুণ করলে ফলাফল হয় [০] শূন্য। আবার, পাঁচ লক্ষ পঞ্চান্ন হাজার পাঁচশ পঞ্চান্নের সাথে শূন্যকে গুণ করলেও ফলাফল হয় [০] শূন্য।

অর্থাৎ, ৫ × ০ = ০
এবং, ৫,৫৫,৫৫৫ × ০ = ০

দ্বিতীয়ত, কোনো সংখ্যাকে [০] শূন্য দ্বারা ভাগ করা যায় না।

অর্থাৎ, ৫ ÷ ০ = অ-সংজ্ঞায়িত
এবং, ৫,৫৫,৫৫৫ ÷ ০ = অ-সংজ্ঞায়িত

সুতরাং, আমরা দেখতে পাচ্ছি, সংখ্যা জগতে [০] শূন্য খুবই সমস্যাজনক একটি সংখ্যা। তেমনি, বাস্তব জগতেও আল্লাহকে অবিশ্বাস বা নাস্তিকতা খুবই সমস্যা জনক একটি বিষয়।

মাঝে মাঝে [১] একের গুরুত্ব বোঝার জন্যে শূন্যের প্রয়োজন হয়। তেমনি, আল্লাহ তায়ালার গুরুত্ব বোঝার জন্যেও সমাজে অল্পকিছু নাস্তিকদের প্রয়োজন হয়।


এবার আসুন,

 ‘ইল্লাল্লাহ’ বা [১] ‘এক’ সংখ্যাটি দেখি।

এক [১] দিয়ে যে কোনো সংখ্যাকেই গুণ করুন বা ভাগ করুন ফলাফল ঐ সংখ্যাটি-ই হবে।

অর্থাৎ, ৫ × ১ = ৫
এবং, ৫ ÷ ১ = ৫


এক [১] এমন একটি সংখ্যা যাকে ছাড়া অন্য কোনো সংখ্যা কল্পনা করা যায় না।


যেমন, দুই [২] মানে হলো দুইটা [১]-এর সমষ্টি। তিন [৩] মানে হলো তিনটি [১]-এর সমষ্টি। মানসম্পূর্ণ কোনো সংখ্যাই [১] একের সাহায্য ছাড়া কল্পনা করা যায় না।

অর্থাৎ, মানসম্পূর্ণ সকল সংখ্যা [১] একের উপর নির্ভরশীল, কিন্তু [১] এক কারো উপর নির্ভরশীল নয়।

একইভাবে, আল্লাহর অনুগ্রহ ব্যতীত কোনো কিছুই অস্তিত্ব লাভ করতে পারে না। সবাই আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী, কিন্তু তিনি কারো প্রতি মুখাপেক্ষী নন।



এবার আসুন, কেউ যদি আল্লাহর সাথে শিরক করে, অর্থাৎ, আল্লাহকে যদি [২] দুই, [৩] তিন বা ৩৩৩ টি হিসাবে কল্পনা করা হয়, তাহলে সমস্যা কি হবে?

দেখুন, কোনো সংখ্যাকে [১] ব্যতীত অন্য যে কোনো সংখ্যা দ্বারাই গুন বা ভাগ করা হোক না কেনো, ফলাফল কখনো এক হবে না।

যেমন, ৫ × ২ = ১০
এবং, ৫ ÷ ২ = ২.৫

অর্থাৎ, সৃষ্টি জগতের সবকিছুর মাঝেই অমিল দেখা যেত। সুতরাং, ‘আল্লাহ এক’ এ কথা স্বীকার করতেই হবে।

যেমনটা আল্লাহ তায়ালা বলছেন –
বল, তিনি আল্লাহ এক। [সূরা ১১২ ইখলাস – ১]



Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Write EPub books for the iPad