হাদীস পড়লেই বুঝা যায়, কোরআন আল্লাহর বাণী না!



জবাব:


ভন্ড নাস্তিকদের ভন্ডামির একটি অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে, তারা কোরানে সন্দেহ করে অথচ এর আদি কপি সংরক্ষিত আছে।

কিন্তু তারা হাদিসে ১০০% বিশ্বাস করে। কারণ, ভূয়া হাদীসের সূত্র ধরে ইসলাম, মুহম্মদ(সঃ), তাঁর স্ত্রীগণ, তাঁর প্রিয় সাহাবীগণকে হেয় প্রতিপন্ন করার এরকম মোক্ষম উপায় আর নেই।


বুখারী ও তার সমর্থকদের দাবীর যৌক্তিকতা কতটুকু দেখুন:-


দাবী করা হয় যে , বুখারী ১০০০ শিক্ষকের তত্বাবধানে থেকে ১৬ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে ৬ লক্ষ হাদীস সংগ্রহ , যাচাই বাছাই ও শ্রেনীভূক্ত করেন , যার ভিতরে ১ লক্ষের ও বেশি হাদীস তার মুখস্ত ছিল। তিনি হাদীস সংগ্রহ , যাচাই বাছাই ও শ্রেনীভূক্ত করার কাজটি অতি সতর্কতার সাথে করেছিলেন। যাতে কোন ভুল হাদিস তার সঙ্কলনে ঢুকে পড়তে না পারে।

ফলশ্রুতিতে তিনি ৯৯% হাদীস বাদ দিয়ে মাত্র ৭ হাজারের মতো হাদীসকে সহী আখ্যা দিয়ে তার গ্রন্থে স্থান দিয়েছেন। তার এই অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য মুসলিম উম্মাহ ৫ লক্ষ ৯৩হাজার মিথ্যা হাদীসের প্রভাব থেকে রক্ষা পেয়েছে , এ জন্য তিনি অবশ্যই প্রশংসা পাওয়ার দাবীদার।

 

 

তিনি যে কত সতর্ক ছিলেন এবং কি পরিমান কষ্ট স্বীকার করেছেন তা বলে শেষ করা যাবে না। তিনি নিজে প্রতিটি হাদীসের বর্ননাকারীর বাড়িতে গিয়ে খোজ নিয়েছেন , বর্ননাকারী মদ খেতো কিনা , জীবনে কখনো মিথ্যা কথা বলেছে কিনা , তার চরিত্র কেমন , স্মরনশক্তি কেমন ইত্যাদি ইত্যাদি। এর কোন কিছুতে এতটুকু ব্যাত্যয় পেলেই তিনি সেই হাদীস ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। এই সকল বর্ননাকারী আবার আরবের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন। প্রতিটি বর্ননাকারীর বাড়িতে যাওয়া এত সহজ ছিল না।

তখনকার দিনে প্রাইভেট প্লেন বা পাজেরো বা road sign দেয়া রাজপথ ছিলনা যে নিমেশেই তিনি পৌছে যাবেন। ফলে তাকে শত শত মাইল উট বা ঘোড়ার পিঠে করে যেতে হয়েছে। সঙ্গে নিতে হয়েছে রসদ , রাস্তার গাইড , চোর দস্যু মোকাবেলার জন্য পাইক বরকন্দাজ আরো কত কি। হয়তো বা দেখা গেছে একজনের বাড়িতে যেয়ে ফিরে আসতেই বছর শেষ। 

 

 

বুখারী হয়তো করিৎকর্মা লোক ছিলেন , তার এতো সময় নাও লাগতে পারে। ধরে নিলাম প্রতিটি হাদীস সংগ্রহ , যাচাই বাছাই ও মুখস্ত করতে তার ১ ঘন্টা সময় লেগেছে। এই হিসাবে দিনে ২৪ ঘন্টা ঘুম খাওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে তিনি এক নাগাড়ে কাজ করলেও ৬৮ বছর লাগার কথা। তারপরে ও না হয় প্রতিটি সহী হাদীস (৭০০০) লিপিবদ্ধ করার পরে তার ওজু করে ২ রাকাত করে নফল নামাজ পড়ার কথা বাদ ই দিলাম। তার আয়ুষ্কালই ছিল ৬২ বছর।

 

 

আমি তো মিলাতে পারছি না। আপনারা কেউ কি পারেন , এই হিসাব মিলাতে ?



হাদীস কোরানের ব্যাখ্যা। আসলেই কি তাই?


সহীহ বুখারী সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হাদীসগ্রন্থ। দেখা যাক বুখরীর হাদীস থেকে আমরা কি ধরনের কোরানের ব্যখ্যা পাই।

যদিও কোরানে ১১৪ টা সূরা আছে , বুখারী কিন্তু সকল সূরার সকল আয়াতের ব্যখ্যা দেন নি। ২৮ টি সুরার ব্যাখ্যা সম্বলিত কোন হাদীস বুখারীতে নেই।

সূরা বাক্কারাহতে ২৮৬ টি আয়াত আছে , বুখারীতে মাত্র ৫০ টির মতো আয়াতের ব্যাখ্যা সম্বলিত হাদীস পাবেন। এর অর্থ দাড়ায় ২০% আয়াতের ব্যাখ্যা আছে , বাকি ৮০% এর জন্য আপনাকে উলামাদের কল্পনাশক্তির উপরে নির্ভর করা লাগবে। 

এখন দেখা যাক ব্যাখ্যার ধরন। সূরা আল-কাওসারে(১০৮) ৩টি আয়াত আছে। একটি মাত্র শব্দের ব্যাখ্যার মধ্য দিয়েই পুরা সুরার ব্যাখ্যা সম্পন্ন করাকেই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে। বুখারী বলেছেন - 'কাওসার' জান্নাতের একটি নদী। বুখারী যে আরবি জানতেন না এটা মনে হয় তার একটা উদাহরন। কারন 'কাওসার' মানে পর্যাপ্ত পরিমানে ভালো কিছু। 'কাথির' মানে অনেক , পর্যাপ্ত।


পরিশেষে বলব - যে ২৮ টি সূরার ব্যখ্যার কোন হাদীসই পাওয়া যায় না , সে সম্পর্কে কি বলবেন , হাদীস কোরানের ব্যাখ্যা , এই মতবাদের সমর্থকরা?

এই সূরাগুলো হলো 23, 27, 29, 35, 51, 57, 58, 64, 67, 69, 70, 73, 76, 81, 82, 86, 88, 89, 90, 94, 100, 101, 103, 104, 105, 106, 107, এবং 109।

বুখারী বলেছেন , এই সূরাগুলোর ব্যাখ্যায় কোন হাদীস নাই।


বিদায় হজ্জের ৩টি পরস্পর বিরোধী সহী হাদীস পাওয়া যায়!


বিদায় হজ্জের মতো গুরুত্বপূর্ন ভাষনটি যা হাজার হাজার মানুষ একি সময়ে শুনেছিল , সেই ভাষনকে কোট করে ২টি নয় ৩টি পরস্পর বিরোধী সহী হাদীস পাওয়া যায়!!

 

১) আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর বই (কোরান) ও আমার পরিবার কে রেখে গেলাম , যদি তোমরা এদুটোকে আকড়ে থাকো , তবে কখনো বিপথগামী হবে না। মুসলিম ৪৪/৪ , নু ২৪০৮/৩৩১৯, ইবনে হাম্বল ৪/৩৬৬, দারিমি ২৩/১।

 

২) আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর বই (কোরান) ও আমার সুন্নাহকে রেখে গেলাম , যদি তোমরা এদুটোকে আকড়ে থাকো , তবে কখনো বিপথগামী হবে না। মুয়াত্তা ৪৬/৩।

 

৩) আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর বই কে রেখে গেলাম , যদি তোমরা এটাকে আকড়ে থাকো , তবে কখনো বিপথগামী হবে না। মুসলিম ১৫/১৯, নু ১২১৮, ইবনে মাজাহ ২৫/৮৪, আবু দাউদ ১১/৫৬।

 

 

দেখুন বিদায় হজ্বের বাণী হাজার হাজার সমবেত মুসলমান শোনার পরেও এর ৩টি ভার্ষান পাওয়া যায়। প্রতিটিই সহী হাদীস। তাহলেই বুঝুন হাদীস বানানো কত সোজা ছিল এবং কেনো লক্ষ লক্ষ হাদীসের ছড়াছড়ি ছিল। এই মিথ্যা হাদীস ব্যবহার করে মুসলমানদের মাঝে যে বিভক্তি এসেছে , তার প্রমান ১ নং হাদীসটি শীয়ারা বিশ্বাস করে শীয়া হয়েছে আর ২ নং হাদীসটি বিশ্বাস করে সুন্নিরা সুন্নি হয়েছে।






হাদিস ছাড়া কোরান বোঝা অসম্ভব!


ভুল কথা। একটি উদাহরন দেই--

  

সুরা হুদ(১১)আয়াত ৪-৬

আল্লাহর সান্নিধ্যেই তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।জেনে রাখ, নিশ্চয়ই তারা নিজেদের বক্ষদেশ ঘুরিয়ে দেয় যেন আল্লাহর নিকট হতে লুকাতে পারে। শুন, তারা তখন কাপড়ে নিজেদেরকে আচ্ছাদিত করে, তিনি তখনও জানেন যা কিছু তারা চুপিসারে বলে আর প্রকাশ্যভাবে বলে। নিশ্চয় তিনি জানেন যা কিছু অন্তর সমূহে নিহিত রয়েছে। আর পৃথিবীতে কোন বিচরণশীল নেই, তবে সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে রয়েছে।


এই আয়াতগুলোর মানে বোঝা কি কষ্টকর? সরল মানে দাড়ায় - আমরা সকলেই আল্লাহ্র কাছে ফিরে যাব। কোন কিছুই আল্লাহ্র কাছ থেকে লুকানো সম্ভব না। প্রতিটি জীবিত প্রাণী , ক্ষুদ্র ও বৃহৎ , সকলের রেকর্ড তার কাছে আছে।

 

বুখারীর হাদীস থেকে উপরোক্ত আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা - ভলুম ৬ হাদীস নং ২০৩ - মুহাম্মদ বিন আব্বাদ বিন জাফর বর্ননা করেছেন - "তিনি ইবনে আব্বাসের এই আয়াতের ব্যখ্যায় বলতে শুনেছেন - কিছু লোক যখন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে খোলা জায়গায় বসত , তখন কাপড় দিয়ে নিজেদেরকে ঢেকে নিত , যাতে আকাশ থেকে তাদেরকে দেখা না যায়। এই লোকদের উদ্দেশ্যেই ৫ নং আয়াত নাযিল হয়।" বুখারীর এই হাদীসের বর্ননার কারন এটাই বুঝানো যে , যেহেতু আল্লাহ সবকিছুই জানেন ও দেখেন , ফলে পেশাব পায়খানার সময় কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার কোন দরকার নেই । এই আয়াতের পরে যে সকল সাহাবা স্ত্রীদের সাথে সফর করতেন , তারা সংযম পরিত্যাগ করেন , কারন আল্লাহ যখন সব দেখতে পান , তখন আর সংযম করে ফায়দা কি। তাহলেই বুঝুন ব্যাখ্যার কি দশা!! 

  

এই রকম বিকৃত ব্যখ্যা আরো অনেক আয়াতের দেয়া হয়েছে। যেগুলো লিখে কয়েক খন্ডেও শেষ করা যাবে না।



কোরানে হাদীস সম্পর্কীয় আয়াত:-

 

কোরানে ব্যবহৃত হাদীস শব্দটির পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই যে , আল্লাহ চান আমরা তারই হাদীস অর্থাৎ কোরান ছাড়া যেন অন্য কোন হাদীস অনুসরন না করি।

 

নিম্নে আমি কয়েকটি আয়াতের অনুবাদ দিচ্ছি , যেগুলো পড়লে পরিস্কার হয়ে যাবে আল্লাহ কি বলেছেন। এখানে আরবি শব্দ হাদীসের কোন মানে করা হয় নাই। হাদীস শব্দটিই কোরানে ব্যবহার হইয়াছে।

 

সূরা আল আ’রাফ (৭) আয়াত ১৮৫

তারা কি প্রত্যক্ষ করেনি আকাশ ও পৃথিবীর রাজ্য সম্পর্কে এবং যা কিছু সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ তা’আলা বস্তু সামগ্রী থেকে এবং এ ব্যাপারে যে, তাদের সাথে কৃত ওয়াদার সময় নিকটবর্তী হয়ে এসেছে? বস্তুতঃ এরপর আর কোন  হাদীসের উপর ঈমান আনবে? 

 

সূরা লোকমান (৩১) আয়াত ৬

একশ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশে অবান্তর  হাদীস সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি। 

 

সূরা আল জাসিয়া (৪৫) আয়াত ৬

এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি আপনার কাছে আবৃত্তি করি যথাযথরূপে। অতএব, আল্লাহ ও তাঁর আয়াতের পর তারা কোন  হাদীসে বিশ্বাস স্থাপন করবে। 

 

সূরা আত্ব তূর (৫২) আয়াত ৩৪

যদি তারা সত্যবাদী হয়ে থাকে, তবে এর (কোরানের) অনুরূপ কোন  হাদীস উপস্থিত করুক।

 

সূরা আল মুরসালাত (৭৭) আয়াত ৫০

এরপরে (কোরানের) আর কোন হাদীসে বিশ্বাস স্থাপন করবে? 

 

যারা আল্লাহর উপরোক্ত আয়াতগুলো বিশ্বাস করবে না , তাদের স্মরনের জন্য নিম্নের আয়াত। 

সূরা সেজদাহ (৩২) আয়াত ২২

যে ব্যক্তিকে তার পালনকর্তার আয়াতসমূহ দ্বারা উপদেশ দান করা হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার চেয়ে যালেম আর কে? আমি অপরাধীদেরকে শাস্তি দেব। 

 

৩১) সূরা লোকমান ( মক্কায় অবতীর্ণ ), আয়াত ৭

যখন ওদের সামনে আমার আয়তসমূহ পাঠ করা হয়, তখন ওরা দম্ভের সাথে এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন ওরা তা শুনতেই পায়নি অথবা যেন ওদের দু’কান বধির। সুতরাং ওদেরকে কষ্টদায়ক আযাবের সংবাদ 

 


কোরান ব্যাখ্যাসহ অবতীর্ণ :-


[১৮: কাহ্ফ-৫৪] অর্থ:

আমি মানুষের জন্য এই কোরানে বিভিন্ন উদাহরণ দ্বারা পূর্ণ ব্যাখ্যাসহ বর্ণনা করেছি। কিন্তু মানুষ অধিকাংশ ব্যাপারেই তা অস্বীকার করে এবং ঝগড়া ও মতবিরোধে লিপ্ত হয় !

 

[৬: আনআম-১২৬] অর্থ:

ইহাই তোমার রবের নির্দেশিত সহজ সরল পথ। যারা উপদেশ গ্রহণ করে, তাদের জন্য আয়াতগুলো পূর্ণ ব্যাখ্যাসহ বিবৃত করেছি।

 

[২৪: নূর-১৮, ৪৬, ৫৮, ৬১] অর্থ:

আল্লাহ তোমাদের জন্য তার বাণীসমূহ পূর্ণ ব্যাখ্যাসহ বিবৃত করেছেন।

 

 [১২: ইউসুফ-১১১] অর্থ:

হাদিছের (কোরানকেই হাদিছ বলে সনাক্ত করা হয়েছে) বাণী মিথ্যা নয়। বিশ্বাসীদের জন্য অতীত কেতাবগুলোর সমার্থক এবং উহাদেরই বিশদ ব্যাখ্যা, হেদায়েত ও রহমত। (অবিকল আয়াত কোরানে অসংখ্য)।

 

[৬: আনআম-৬৫] অর্থ:

দেখ! আমি আয়াতসমূহ কেমন বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ বর্ণনা  করেছি যেন তারা বুঝতে পারে।

 

[৭: আরাফ-৫৮] অর্থ:

এভাবেই কৃতজ্ঞ সম্প্রদায়ের জন্য আমার আয়াত বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছি।

-

সম্পূর্ণ কোরানখানিই আল্লাহর অহি এবং উহাই মহানবির পবিত্র মুখ নিঃসৃত হাদিছ:‘ইন্নাহু লা কাউলু রাছুলিন কারীম’। (৬৯: ৪৪; ৮১: ১৯) অর্থ: অবশ্যই ইহা (কোরান) সম্মানিত রাছুলের হাদিছ/বাণী। মহানবিই বলেছেন যে ইহা আল্লাহর অহি, আল্লাহর হাদিছ।





কোরান বনাম হাদিছ:-


 কোরান: ব্যাভিচারি/ব্যভিচারিনীদের প্রকাশ্যে একশত কষাঘাত করবে। আল্লাহর নির্দেশ কার্যকরীকরণে উহাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদের প্রভাবিত না করে। [২৪: ২]

 

হাদিছ: ব্যাভিচারী/ব্যাভীচারিনীদের পাথর মেরে হত্যা করার আয়াত হযরত মুহাম্মাদের সময়ই কোরানে উহা লেখা ছিল; কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর বিবি আয়শার ঘরে একটি ছাগল ঢুকে লিখিত ঐ চামড়ার পৃষ্ঠাটি খেয়ে ফেলেছে।

 

[হাদিছ সুত্র: ১৬ নং: মোসলেম (আরবি) হাদিছ নং-৩৮৪৮; ১৭ নং: বোখারী (ইংরাজি) হাদিছ নং-৯৭/ ২৪; ১০/১২৯; ১৮ নং: হাম্বল (আরবি) - ৪/৮৫; ৫/৫৪; ১৯ নং: ইবনে মাজা-৩৬/১৯৪৪; হাম্বল (আরবি)- ৫/ ১৩১, ১৩২, ১৮৩; ৬/২৬৯; ২০ নং: বোখারী (আরবি)- ৪/১০২; হাম্বাল (আরবি)-৪/৮৬; ৩/৬১;] ]

 

 

 

কোরান: - এবং উহাদের কুকুরের পা’দ্বয় প্রসারিত করে গৃহদ্বারে ছিল- তুমি দেখলে ভয়ে পলায়ণ করতে। [১৮: ১৮]

 

 হাদিছ: কুকুর (কাল) দেখলেই মেরে ফেলবে কারণ উহারা শয়তান। 



কোরান: তারা স্থায়ী বাগানে থাকবে, সেখানে তাদের স্বর্ণ ও মুক্তা নির্মিত অলংকার এবং পোষাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের। [৩৫: ৩৩]

 

হাদিছ: রাছুল নিষিদ্ধ করেছেন রৌপ্য গ্লাস, স্বর্ণালঙ্কার, রেশমী ও সিল্ক বস্রাদির ব্যবহার।

 

 

 

 

কোরান: নিশ্চয়ই তুমি মৃতদেরকে শুনাতে পারবে না- অন্ধ, বধিরকেও নয়। [২৮: নমল- ৮০, ৮১; ৩০: রূম-৫২,৫৩

 

হাদিছ: আব্দুল্লাহ এবনে ওমর বর্ণনা করেন: রাছুল (সা) মরা লাশগুলির প্রতি উকি দিয়ে বলতে লাগলেন-। ঐ সময় হযরত ওমর (রা) বললেন, ‘ইয়া রাছুলাল্লাহ! আপনি মৃত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলছেন? যাদের কোন শ্রবণ শক্তি নেই।’ নবি উত্তর দিলেন, ‘তারা তোমাদের মতই শ্রবণ করে কিন্তু উত্তর দেওয়ার শক্তি নেই।’ [হাদিছ সূত্র: বোখারী, ১ম খন্ড, আজিজুল. হক; পৃ: ৩৫১]



 আল্লাহ বলেছেন কোরান যথেষ্ট :-


 কোরান মহাজ্ঞাণী সর্বজ্ঞ আল্লাহ প্রদত্ত নিখুত নির্ভুল (perfect)সবিস্তার ব্যাখ্যা সহ বর্ণীত বাণী। 

 

  আল্লাহ বলেছেন কোরান পরিস্কার সহজ।

 

  কোরানের ব্যখ্যার জন্য কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই। কারন আল্লাহ্ই বিশদব্যাখ্যাসহ কোরানকে পাঠিয়েছেন।

 

 

৬:৩৮)আর এমন কোনো জীব নেই এই পৃথিবীতে , আর না আছে কোন উড়ন্ত প্রাণী যে উড়ে তার দুই ডানার সাহায্যে, যারা তোমাদের মতো এক সম্প্রদায়ের নয়। আমরা এই কিতাবে কোন কিছুই বাদ দেই নি।অতঃপর তাদের প্রভূর দিকে এইসকল জীবদের একত্রিত করা হবে।

 

 

তাহলে দেখা যাচ্ছে , কোরানে মানুষের মুক্তির জন্য যা যা দরকার , তার কিছুই বাদ পড়েনি।

 


 

২৯:৫১) এটা কি তাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে , আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি , যা তাদের কাছে পাঠ করা হয়। এতে অবশ্যই বিশ্বাসী লোকদের জন্য রহমত ও উপদেশ আছে।

 

 

৪৫:৬) এগুলো কোরানের আয়াত, আমি আপনার কাছে আবৃত্তি করি যথাযথভাবে। অতএব আল্লাহ ও তার আয়াতের পর তারা কোন কথায় বিশ্বাস স্থাপন করবে।

 

 

 

আল্লাহ্র এই বাণীর পরেও কোন কোন বিশেষজ্ঞ দাবী করছেন , কোরান সহজ সরল তো নয়ই , উপরোন্ত এর ব্যখ্যার জন্য হাদীস , ইজমা কিয়াসের প্রয়োজন আছে এবং কোরান যথেষ্ট নয়। কার কথা বিশ্বাস করব? আলেম ওলামা ও বিশেষজ্ঞদের নাকি আল্লাহ্র বানী কোরান কে?



Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Full-featured EPub generator