হাদীস পড়লেই বুঝা যায়, কোরআন আল্লাহর বাণী না!



জবাব:


ভন্ড নাস্তিকদের ভন্ডামির একটি অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে, তারা কোরানে সন্দেহ করে অথচ এর আদি কপি সংরক্ষিত আছে।

কিন্তু তারা হাদিসে ১০০% বিশ্বাস করে। কারণ, ভূয়া হাদীসের সূত্র ধরে ইসলাম, মুহম্মদ(সঃ), তাঁর স্ত্রীগণ, তাঁর প্রিয় সাহাবীগণকে হেয় প্রতিপন্ন করার এরকম মোক্ষম উপায় আর নেই।


বুখারী ও তার সমর্থকদের দাবীর যৌক্তিকতা কতটুকু দেখুন:-


দাবী করা হয় যে , বুখারী ১০০০ শিক্ষকের তত্বাবধানে থেকে ১৬ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে ৬ লক্ষ হাদীস সংগ্রহ , যাচাই বাছাই ও শ্রেনীভূক্ত করেন , যার ভিতরে ১ লক্ষের ও বেশি হাদীস তার মুখস্ত ছিল। তিনি হাদীস সংগ্রহ , যাচাই বাছাই ও শ্রেনীভূক্ত করার কাজটি অতি সতর্কতার সাথে করেছিলেন। যাতে কোন ভুল হাদিস তার সঙ্কলনে ঢুকে পড়তে না পারে।

ফলশ্রুতিতে তিনি ৯৯% হাদীস বাদ দিয়ে মাত্র ৭ হাজারের মতো হাদীসকে সহী আখ্যা দিয়ে তার গ্রন্থে স্থান দিয়েছেন। তার এই অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য মুসলিম উম্মাহ ৫ লক্ষ ৯৩হাজার মিথ্যা হাদীসের প্রভাব থেকে রক্ষা পেয়েছে , এ জন্য তিনি অবশ্যই প্রশংসা পাওয়ার দাবীদার।

 

 

তিনি যে কত সতর্ক ছিলেন এবং কি পরিমান কষ্ট স্বীকার করেছেন তা বলে শেষ করা যাবে না। তিনি নিজে প্রতিটি হাদীসের বর্ননাকারীর বাড়িতে গিয়ে খোজ নিয়েছেন , বর্ননাকারী মদ খেতো কিনা , জীবনে কখনো মিথ্যা কথা বলেছে কিনা , তার চরিত্র কেমন , স্মরনশক্তি কেমন ইত্যাদি ইত্যাদি। এর কোন কিছুতে এতটুকু ব্যাত্যয় পেলেই তিনি সেই হাদীস ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। এই সকল বর্ননাকারী আবার আরবের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন। প্রতিটি বর্ননাকারীর বাড়িতে যাওয়া এত সহজ ছিল না।

তখনকার দিনে প্রাইভেট প্লেন বা পাজেরো বা road sign দেয়া রাজপথ ছিলনা যে নিমেশেই তিনি পৌছে যাবেন। ফলে তাকে শত শত মাইল উট বা ঘোড়ার পিঠে করে যেতে হয়েছে। সঙ্গে নিতে হয়েছে রসদ , রাস্তার গাইড , চোর দস্যু মোকাবেলার জন্য পাইক বরকন্দাজ আরো কত কি। হয়তো বা দেখা গেছে একজনের বাড়িতে যেয়ে ফিরে আসতেই বছর শেষ। 

 

 

বুখারী হয়তো করিৎকর্মা লোক ছিলেন , তার এতো সময় নাও লাগতে পারে। ধরে নিলাম প্রতিটি হাদীস সংগ্রহ , যাচাই বাছাই ও মুখস্ত করতে তার ১ ঘন্টা সময় লেগেছে। এই হিসাবে দিনে ২৪ ঘন্টা ঘুম খাওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে তিনি এক নাগাড়ে কাজ করলেও ৬৮ বছর লাগার কথা। তারপরে ও না হয় প্রতিটি সহী হাদীস (৭০০০) লিপিবদ্ধ করার পরে তার ওজু করে ২ রাকাত করে নফল নামাজ পড়ার কথা বাদ ই দিলাম। তার আয়ুষ্কালই ছিল ৬২ বছর।

 

 

আমি তো মিলাতে পারছি না। আপনারা কেউ কি পারেন , এই হিসাব মিলাতে ?



হাদীস কোরানের ব্যাখ্যা। আসলেই কি তাই?


সহীহ বুখারী সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হাদীসগ্রন্থ। দেখা যাক বুখরীর হাদীস থেকে আমরা কি ধরনের কোরানের ব্যখ্যা পাই।

যদিও কোরানে ১১৪ টা সূরা আছে , বুখারী কিন্তু সকল সূরার সকল আয়াতের ব্যখ্যা দেন নি। ২৮ টি সুরার ব্যাখ্যা সম্বলিত কোন হাদীস বুখারীতে নেই।

সূরা বাক্কারাহতে ২৮৬ টি আয়াত আছে , বুখারীতে মাত্র ৫০ টির মতো আয়াতের ব্যাখ্যা সম্বলিত হাদীস পাবেন। এর অর্থ দাড়ায় ২০% আয়াতের ব্যাখ্যা আছে , বাকি ৮০% এর জন্য আপনাকে উলামাদের কল্পনাশক্তির উপরে নির্ভর করা লাগবে। 

এখন দেখা যাক ব্যাখ্যার ধরন। সূরা আল-কাওসারে(১০৮) ৩টি আয়াত আছে। একটি মাত্র শব্দের ব্যাখ্যার মধ্য দিয়েই পুরা সুরার ব্যাখ্যা সম্পন্ন করাকেই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে। বুখারী বলেছেন - 'কাওসার' জান্নাতের একটি নদী। বুখারী যে আরবি জানতেন না এটা মনে হয় তার একটা উদাহরন। কারন 'কাওসার' মানে পর্যাপ্ত পরিমানে ভালো কিছু। 'কাথির' মানে অনেক , পর্যাপ্ত।


পরিশেষে বলব - যে ২৮ টি সূরার ব্যখ্যার কোন হাদীসই পাওয়া যায় না , সে সম্পর্কে কি বলবেন , হাদীস কোরানের ব্যাখ্যা , এই মতবাদের সমর্থকরা?

এই সূরাগুলো হলো 23, 27, 29, 35, 51, 57, 58, 64, 67, 69, 70, 73, 76, 81, 82, 86, 88, 89, 90, 94, 100, 101, 103, 104, 105, 106, 107, এবং 109।

বুখারী বলেছেন , এই সূরাগুলোর ব্যাখ্যায় কোন হাদীস নাই।


বিদায় হজ্জের ৩টি পরস্পর বিরোধী সহী হাদীস পাওয়া যায়!


বিদায় হজ্জের মতো গুরুত্বপূর্ন ভাষনটি যা হাজার হাজার মানুষ একি সময়ে শুনেছিল , সেই ভাষনকে কোট করে ২টি নয় ৩টি পরস্পর বিরোধী সহী হাদীস পাওয়া যায়!!

 

১) আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর বই (কোরান) ও আমার পরিবার কে রেখে গেলাম , যদি তোমরা এদুটোকে আকড়ে থাকো , তবে কখনো বিপথগামী হবে না। মুসলিম ৪৪/৪ , নু ২৪০৮/৩৩১৯, ইবনে হাম্বল ৪/৩৬৬, দারিমি ২৩/১।

 

২) আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর বই (কোরান) ও আমার সুন্নাহকে রেখে গেলাম , যদি তোমরা এদুটোকে আকড়ে থাকো , তবে কখনো বিপথগামী হবে না। মুয়াত্তা ৪৬/৩।

 

৩) আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর বই কে রেখে গেলাম , যদি তোমরা এটাকে আকড়ে থাকো , তবে কখনো বিপথগামী হবে না। মুসলিম ১৫/১৯, নু ১২১৮, ইবনে মাজাহ ২৫/৮৪, আবু দাউদ ১১/৫৬।

 

 

দেখুন বিদায় হজ্বের বাণী হাজার হাজার সমবেত মুসলমান শোনার পরেও এর ৩টি ভার্ষান পাওয়া যায়। প্রতিটিই সহী হাদীস। তাহলেই বুঝুন হাদীস বানানো কত সোজা ছিল এবং কেনো লক্ষ লক্ষ হাদীসের ছড়াছড়ি ছিল। এই মিথ্যা হাদীস ব্যবহার করে মুসলমানদের মাঝে যে বিভক্তি এসেছে , তার প্রমান ১ নং হাদীসটি শীয়ারা বিশ্বাস করে শীয়া হয়েছে আর ২ নং হাদীসটি বিশ্বাস করে সুন্নিরা সুন্নি হয়েছে।






হাদিস ছাড়া কোরান বোঝা অসম্ভব!


ভুল কথা। একটি উদাহরন দেই--

  

সুরা হুদ(১১)আয়াত ৪-৬

আল্লাহর সান্নিধ্যেই তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।জেনে রাখ, নিশ্চয়ই তারা নিজেদের বক্ষদেশ ঘুরিয়ে দেয় যেন আল্লাহর নিকট হতে লুকাতে পারে। শুন, তারা তখন কাপড়ে নিজেদেরকে আচ্ছাদিত করে, তিনি তখনও জানেন যা কিছু তারা চুপিসারে বলে আর প্রকাশ্যভাবে বলে। নিশ্চয় তিনি জানেন যা কিছু অন্তর সমূহে নিহিত রয়েছে। আর পৃথিবীতে কোন বিচরণশীল নেই, তবে সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে রয়েছে।


এই আয়াতগুলোর মানে বোঝা কি কষ্টকর? সরল মানে দাড়ায় - আমরা সকলেই আল্লাহ্র কাছে ফিরে যাব। কোন কিছুই আল্লাহ্র কাছ থেকে লুকানো সম্ভব না। প্রতিটি জীবিত প্রাণী , ক্ষুদ্র ও বৃহৎ , সকলের রেকর্ড তার কাছে আছে।

 

বুখারীর হাদীস থেকে উপরোক্ত আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা - ভলুম ৬ হাদীস নং ২০৩ - মুহাম্মদ বিন আব্বাদ বিন জাফর বর্ননা করেছেন - "তিনি ইবনে আব্বাসের এই আয়াতের ব্যখ্যায় বলতে শুনেছেন - কিছু লোক যখন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে খোলা জায়গায় বসত , তখন কাপড় দিয়ে নিজেদেরকে ঢেকে নিত , যাতে আকাশ থেকে তাদেরকে দেখা না যায়। এই লোকদের উদ্দেশ্যেই ৫ নং আয়াত নাযিল হয়।" বুখারীর এই হাদীসের বর্ননার কারন এটাই বুঝানো যে , যেহেতু আল্লাহ সবকিছুই জানেন ও দেখেন , ফলে পেশাব পায়খানার সময় কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার কোন দরকার নেই । এই আয়াতের পরে যে সকল সাহাবা স্ত্রীদের সাথে সফর করতেন , তারা সংযম পরিত্যাগ করেন , কারন আল্লাহ যখন সব দেখতে পান , তখন আর সংযম করে ফায়দা কি। তাহলেই বুঝুন ব্যাখ্যার কি দশা!! 

  

এই রকম বিকৃত ব্যখ্যা আরো অনেক আয়াতের দেয়া হয়েছে। যেগুলো লিখে কয়েক খন্ডেও শেষ করা যাবে না।



কোরানে হাদীস সম্পর্কীয় আয়াত:-

 

কোরানে ব্যবহৃত হাদীস শব্দটির পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই যে , আল্লাহ চান আমরা তারই হাদীস অর্থাৎ কোরান ছাড়া যেন অন্য কোন হাদীস অনুসরন না করি।

 

নিম্নে আমি কয়েকটি আয়াতের অনুবাদ দিচ্ছি , যেগুলো পড়লে পরিস্কার হয়ে যাবে আল্লাহ কি বলেছেন। এখানে আরবি শব্দ হাদীসের কোন মানে করা হয় নাই। হাদীস শব্দটিই কোরানে ব্যবহার হইয়াছে।

 

সূরা আল আ’রাফ (৭) আয়াত ১৮৫

তারা কি প্রত্যক্ষ করেনি আকাশ ও পৃথিবীর রাজ্য সম্পর্কে এবং যা কিছু সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ তা’আলা বস্তু সামগ্রী থেকে এবং এ ব্যাপারে যে, তাদের সাথে কৃত ওয়াদার সময় নিকটবর্তী হয়ে এসেছে? বস্তুতঃ এরপর আর কোন  হাদীসের উপর ঈমান আনবে? 

 

সূরা লোকমান (৩১) আয়াত ৬

একশ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশে অবান্তর  হাদীস সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি। 

 

সূরা আল জাসিয়া (৪৫) আয়াত ৬

এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি আপনার কাছে আবৃত্তি করি যথাযথরূপে। অতএব, আল্লাহ ও তাঁর আয়াতের পর তারা কোন  হাদীসে বিশ্বাস স্থাপন করবে। 

 

সূরা আত্ব তূর (৫২) আয়াত ৩৪

যদি তারা সত্যবাদী হয়ে থাকে, তবে এর (কোরানের) অনুরূপ কোন  হাদীস উপস্থিত করুক।

 

সূরা আল মুরসালাত (৭৭) আয়াত ৫০

এরপরে (কোরানের) আর কোন হাদীসে বিশ্বাস স্থাপন করবে? 

 

যারা আল্লাহর উপরোক্ত আয়াতগুলো বিশ্বাস করবে না , তাদের স্মরনের জন্য নিম্নের আয়াত। 

সূরা সেজদাহ (৩২) আয়াত ২২

যে ব্যক্তিকে তার পালনকর্তার আয়াতসমূহ দ্বারা উপদেশ দান করা হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার চেয়ে যালেম আর কে? আমি অপরাধীদেরকে শাস্তি দেব। 

 

৩১) সূরা লোকমান ( মক্কায় অবতীর্ণ ), আয়াত ৭

যখন ওদের সামনে আমার আয়তসমূহ পাঠ করা হয়, তখন ওরা দম্ভের সাথে এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন ওরা তা শুনতেই পায়নি অথবা যেন ওদের দু’কান বধির। সুতরাং ওদেরকে কষ্টদায়ক আযাবের সংবাদ 

 


কোরান ব্যাখ্যাসহ অবতীর্ণ :-


[১৮: কাহ্ফ-৫৪] অর্থ:

আমি মানুষের জন্য এই কোরানে বিভিন্ন উদাহরণ দ্বারা পূর্ণ ব্যাখ্যাসহ বর্ণনা করেছি। কিন্তু মানুষ অধিকাংশ ব্যাপারেই তা অস্বীকার করে এবং ঝগড়া ও মতবিরোধে লিপ্ত হয় !

 

[৬: আনআম-১২৬] অর্থ:

ইহাই তোমার রবের নির্দেশিত সহজ সরল পথ। যারা উপদেশ গ্রহণ করে, তাদের জন্য আয়াতগুলো পূর্ণ ব্যাখ্যাসহ বিবৃত করেছি।

 

[২৪: নূর-১৮, ৪৬, ৫৮, ৬১] অর্থ:

আল্লাহ তোমাদের জন্য তার বাণীসমূহ পূর্ণ ব্যাখ্যাসহ বিবৃত করেছেন।

 

 [১২: ইউসুফ-১১১] অর্থ:

হাদিছের (কোরানকেই হাদিছ বলে সনাক্ত করা হয়েছে) বাণী মিথ্যা নয়। বিশ্বাসীদের জন্য অতীত কেতাবগুলোর সমার্থক এবং উহাদেরই বিশদ ব্যাখ্যা, হেদায়েত ও রহমত। (অবিকল আয়াত কোরানে অসংখ্য)।

 

[৬: আনআম-৬৫] অর্থ:

দেখ! আমি আয়াতসমূহ কেমন বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ বর্ণনা  করেছি যেন তারা বুঝতে পারে।

 

[৭: আরাফ-৫৮] অর্থ:

এভাবেই কৃতজ্ঞ সম্প্রদায়ের জন্য আমার আয়াত বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছি।

-

সম্পূর্ণ কোরানখানিই আল্লাহর অহি এবং উহাই মহানবির পবিত্র মুখ নিঃসৃত হাদিছ:‘ইন্নাহু লা কাউলু রাছুলিন কারীম’। (৬৯: ৪৪; ৮১: ১৯) অর্থ: অবশ্যই ইহা (কোরান) সম্মানিত রাছুলের হাদিছ/বাণী। মহানবিই বলেছেন যে ইহা আল্লাহর অহি, আল্লাহর হাদিছ।





কোরান বনাম হাদিছ:-


 কোরান: ব্যাভিচারি/ব্যভিচারিনীদের প্রকাশ্যে একশত কষাঘাত করবে। আল্লাহর নির্দেশ কার্যকরীকরণে উহাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদের প্রভাবিত না করে। [২৪: ২]

 

হাদিছ: ব্যাভিচারী/ব্যাভীচারিনীদের পাথর মেরে হত্যা করার আয়াত হযরত মুহাম্মাদের সময়ই কোরানে উহা লেখা ছিল; কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর বিবি আয়শার ঘরে একটি ছাগল ঢুকে লিখিত ঐ চামড়ার পৃষ্ঠাটি খেয়ে ফেলেছে।

 

[হাদিছ সুত্র: ১৬ নং: মোসলেম (আরবি) হাদিছ নং-৩৮৪৮; ১৭ নং: বোখারী (ইংরাজি) হাদিছ নং-৯৭/ ২৪; ১০/১২৯; ১৮ নং: হাম্বল (আরবি) - ৪/৮৫; ৫/৫৪; ১৯ নং: ইবনে মাজা-৩৬/১৯৪৪; হাম্বল (আরবি)- ৫/ ১৩১, ১৩২, ১৮৩; ৬/২৬৯; ২০ নং: বোখারী (আরবি)- ৪/১০২; হাম্বাল (আরবি)-৪/৮৬; ৩/৬১;] ]

 

 

 

কোরান: - এবং উহাদের কুকুরের পা’দ্বয় প্রসারিত করে গৃহদ্বারে ছিল- তুমি দেখলে ভয়ে পলায়ণ করতে। [১৮: ১৮]

 

 হাদিছ: কুকুর (কাল) দেখলেই মেরে ফেলবে কারণ উহারা শয়তান। 



কোরান: তারা স্থায়ী বাগানে থাকবে, সেখানে তাদের স্বর্ণ ও মুক্তা নির্মিত অলংকার এবং পোষাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের। [৩৫: ৩৩]

 

হাদিছ: রাছুল নিষিদ্ধ করেছেন রৌপ্য গ্লাস, স্বর্ণালঙ্কার, রেশমী ও সিল্ক বস্রাদির ব্যবহার।

 

 

 

 

কোরান: নিশ্চয়ই তুমি মৃতদেরকে শুনাতে পারবে না- অন্ধ, বধিরকেও নয়। [২৮: নমল- ৮০, ৮১; ৩০: রূম-৫২,৫৩

 

হাদিছ: আব্দুল্লাহ এবনে ওমর বর্ণনা করেন: রাছুল (সা) মরা লাশগুলির প্রতি উকি দিয়ে বলতে লাগলেন-। ঐ সময় হযরত ওমর (রা) বললেন, ‘ইয়া রাছুলাল্লাহ! আপনি মৃত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলছেন? যাদের কোন শ্রবণ শক্তি নেই।’ নবি উত্তর দিলেন, ‘তারা তোমাদের মতই শ্রবণ করে কিন্তু উত্তর দেওয়ার শক্তি নেই।’ [হাদিছ সূত্র: বোখারী, ১ম খন্ড, আজিজুল. হক; পৃ: ৩৫১]



 আল্লাহ বলেছেন কোরান যথেষ্ট :-


 কোরান মহাজ্ঞাণী সর্বজ্ঞ আল্লাহ প্রদত্ত নিখুত নির্ভুল (perfect)সবিস্তার ব্যাখ্যা সহ বর্ণীত বাণী। 

 

  আল্লাহ বলেছেন কোরান পরিস্কার সহজ।

 

  কোরানের ব্যখ্যার জন্য কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই। কারন আল্লাহ্ই বিশদব্যাখ্যাসহ কোরানকে পাঠিয়েছেন।

 

 

৬:৩৮)আর এমন কোনো জীব নেই এই পৃথিবীতে , আর না আছে কোন উড়ন্ত প্রাণী যে উড়ে তার দুই ডানার সাহায্যে, যারা তোমাদের মতো এক সম্প্রদায়ের নয়। আমরা এই কিতাবে কোন কিছুই বাদ দেই নি।অতঃপর তাদের প্রভূর দিকে এইসকল জীবদের একত্রিত করা হবে।

 

 

তাহলে দেখা যাচ্ছে , কোরানে মানুষের মুক্তির জন্য যা যা দরকার , তার কিছুই বাদ পড়েনি।

 


 

২৯:৫১) এটা কি তাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে , আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি , যা তাদের কাছে পাঠ করা হয়। এতে অবশ্যই বিশ্বাসী লোকদের জন্য রহমত ও উপদেশ আছে।

 

 

৪৫:৬) এগুলো কোরানের আয়াত, আমি আপনার কাছে আবৃত্তি করি যথাযথভাবে। অতএব আল্লাহ ও তার আয়াতের পর তারা কোন কথায় বিশ্বাস স্থাপন করবে।

 

 

 

আল্লাহ্র এই বাণীর পরেও কোন কোন বিশেষজ্ঞ দাবী করছেন , কোরান সহজ সরল তো নয়ই , উপরোন্ত এর ব্যখ্যার জন্য হাদীস , ইজমা কিয়াসের প্রয়োজন আছে এবং কোরান যথেষ্ট নয়। কার কথা বিশ্বাস করব? আলেম ওলামা ও বিশেষজ্ঞদের নাকি আল্লাহ্র বানী কোরান কে?



কোরআনে অনেক কিছু নাই :-

কোরআনে অনেক কিছু নাই তায় হাদীস দেখতে হয়! তার মানে আল্লাহ্ কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হলো যে, তার কোরআনে যা নাই হাদীসে তা আছে। কোরআন পড়লেই বোঝা যায় আল্লাহ্ কোরআনের বিধান দিয়ে ফায়সালা করতে বলছে কখনো বলেনী হাদীস দিয়ে ফায়সালা কর।

৫। সূরা মায়েদাহ ৫:৪৭ আয়াতঃ

وَلْيَحْكُمْ أَهْلُ الإِنجِيلِ بِمَا أَنزَلَ اللّهُ فِيهِ وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللّهُ فَأُوْلَـئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ অর্থঃ যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করে না, তারাই পাপাচারী।



৬। সূরা কাহফ ১৮:৫৪ আয়াতঃ

وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِي هَذَا الْقُرْآنِ لِلنَّاسِ مِن كُلِّ مَثَلٍ وَكَانَ الْإِنسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلًا

অর্থঃ নিশ্চয় আমি এ কোরআনে মানুষকে নানাভাবে বিভিন্ন উপমার দ্বারা আমার বাণী বুঝিয়েছি। মানুষ সব বস্তু থেকে অধিক তর্কপ্রিয়।



হাদীস লিপিবদ্ধ করা রাসুলের বারণ ছিলো নিম্নের হাদীস গুলি দেখি।

হযরত আবু ছাইদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন যে, কোরআন ব্যতীত আমার কোন কথাই লিখিও না। আর কোরআন ব্যতীত আমার নিকট থেকে অন্য কিছু লিখে থাকলে, তা যেন মুছে ফেলা হয়।” [ দ্র: সহিহ্ মুসলিম, আ. ফা. ভুইয়া, ১ম খ. ১ম সংস্করণ, পৃ: ৫১]

শরীয়তি আলেমরা কি সব মুছে ফেলেছে?

আমার কাছ থেকে তোমরা কোরান ছাড়া আর কিছুই লিখবেনা। যদি কেউ লিখে থাকে তবে অবশ্যই তা নষ্ট করে ফেল।'' -সহিহ মুসলিম, ভলিউম১, পৃষ্ঠা ২১১, হাদীস নং ৫৯৪, প্রিন্টার-মতকবে আদনান, বৈরুত,১৯৬৭।

শরীয়তি আলেমরা কি সব নষ্ট করে ফেলেছে

হাদীসটি সম্বন্ধে বিশ্বের সকলেই একমত; আবার বিশ্বের সকলেই (শরীয়ত) হাজারো ফন্দি-ফিকির, কুট-কৌশলে হাদীসটি বাতিল বলে সাব্যস্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকেন।

আসুন আমরা কোরআনের আলোয় আলোকিত হই। আল্লাহ আমাদের সকলকে কোরআন বুঝে পড়ার তৌফিক দান করুন----আমেন

রসূলের আনুগত্য প্রকাশ করার অর্থ এই নয় যে, রাসুলকে বাদ দিয়ে (মানুষ) বোখারী সাহেবদের আনুগত্য করতে হবে। আল্লাহ্ রাসুল মানতে গিয়ে কোরআন ও হাদীসের কারনে তাদের মধ্যে বিষদ পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে



হাদিছ সংকলনে খোলাফায়ে রাশেদ্বীনের ভূমিকা

হযরত আবুবকর

প্রথম খলিফা হযরত আবুবকর ছিদ্দীক (রা) নিজে পাঁচ শত হাদিছের

এক সংকলন তৈরি করেছিলেন। কিন্তু জীবনের শেষ ভাগে তিনি নিজেই তা বিনষ্ট করে ফেলেন (জ্বালিয়ে ফেলেন)। এর কারণ স্বরূপ মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেছেন যে, হাদিছসমূহ সংকলন করার পর তিনি মোটেই স্বস্তিলাভ করতে পারেননি। তার মনে কয়েক প্রকার ভয়ের সঞ্চার হয়। তিনি এজন্য ভাবিত হয়ে পড়েন যে, তাঁর সংকলিত হাদিছ সমূহের মধ্যে একটি কথাএকটি শব্দও যদি রাছুল করিমের মূল বাণীর বিন্দুমাত্রও বিপরীত হয়ে পড়ে, তা হলে রাছুলের কঠোর সতর্কবাণী অনুযায়ী তাকে জাহানড়বামের ইন্ধন হতে হবে।

দ্বিতীয়ত তার মনে এই ভয়ও জাগ্রত হল যে, তার সংকলিত হাদিছ

গ্রন্থকে মুসলিম জনগণ যদি কোরানের সমতুল্য মর্যাদা দিয়ে বসে কিংবা অন্যান্য ছাহাবীদের বর্ণিত ও সংকলিত হাদিছ অপেক্ষা অধিক মর্যাদা দিতে শুরু করে, তা হলেও মুসলমানদের পক্ষে বিশেষ ক্ষতির কারণ হইবে। তার ফলে হাদিছ সংকলনের ক্ষেত্রে ব্যাপক কাজ ও অগ্রগতি ব্যাহত হতে পারে। এই সব চিন্তার ফলেই তিনি তা নষ্ট করে ফেলেন। ব্যাপারটিকে আমরা যতই গভীর ও সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে বিচার করে দেখি না কেন, একে একটি বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক ও মানসিক অবস্থার পরিণাম বলা ছাড়া অন্য কিছু বলা যায় না-।”



হযরত ওমর ফারূক

হযরত ওমর ফারূক (রা)-এর সময়ই সরকারি পর্যায়ে বিচ্ছিনড়ব হাদিছ সম্পদ সংকলন ও লিপিবদ্ধ করা হয় এবং সু-সংবদ্ধ করে নেয়ার প্রশ্ন সর্বপ্রথম উত্থাপিত হয়। হযরত ওমর (রা) নিজেই এই বিরাট কাজ সম্পন্ন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এবং এ সম্পর্কে অন্যান্য ছাহাবীর সঙ্গে পরামর্শও করেছিলেন। মুসলমানরা তাঁকে এর অনুকূলেই পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তাঁর নিজের মনেই এই সম্পর্কে দ্বিধা ও সন্দেহের উদ্রেক হয় যে, এটা করা সমীচীন হবে কিনা! তিনি প্রায় একমাস কাল পর্যন্ত অনেক চিন্তা-ভাবনা ও ইস্তেখারা করতে থাকেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই একদিন বললেন: ‘আমি তোমাদের নিকট হাদিছ লিপিবদ্ধ ও সংকলিত করার কথা বলেছিলাম, একথা তোমরা জান। কিন্তু পরে মনে হল তোমাদের পূর্বের আহ্লে কেতাব লোকেরাও এমনিভাবে নবির কথা সংকলিত করেছিল, ফলে তাঁরা তাই আঁকড়ে ধরল এবং আল্লাহর কিতাব

পরিত্যাগ করল। আল্লাহর শপথ, আমি আল্লাহর কিতাবের সাথে অন্য কিছুই মিশ্রিত করব না।’ অতঃপর তিনি হাদিছ সংকলিত করবার সংকল্প ত্যাগ করেন-।”



হযরত ওসমান

হযরত ওসমান [রা] নিজে হাদিছ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু খুব অল্প সংখ্যক হাদিছই তার নিকট হইতে বর্ণিত হয়েছে। এর কারণ প্রদর্শন সম্বন্ধে তিনি নিজেই বলেছেন: ‘রাছুলের ছাহাবীদের মধ্যে রাছুলের অধিক হাদিছ সংরক্ষণকারী আমি নই; এই কারণটি আমাকে রাছুলের হাদিছ বর্ণনা করা হতে বিরত রাখে নি। বরং হাদিছ বর্ণনা হতে বিরত থাকার কারণ এই যে, আমি নিজেই রাছুল করীমকে [সা] এই কথা বলতে শুনেছি বলে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাছুল যা বলেননি তা যদি কেউ তার উপরে আরোপ করে তবে সে যেন জাহানড়বামে তাঁর আশ্রয় খুঁজে নেয়।’ হযরত ওসমান অল্প কয়েকটি হাদিছ বর্ণনা করা ছাড়া অপর কোনো বৃহত্তর খিদমত করেছেন বলে কোথাও উল্লেখ পাওয়া যায় না।



হযরত আলী

যে কয়জন ছাহাবী নিজেদের হাতে রাছুলের নিকট শ্রুত হাদিছ লিপিবদ্ধ করে রেখেছিলেন, হযরত আলী [রা] তাঁহাদের অন্যতম। তিনি কোরানের ব্যাখ্যা ও বিশে−ষণ সম্পর্কে কয়েকটি হাদিছ রাছুলের নিকট হতে শ্রবণ করে লিখেছিলেন। - একে ভাঁজ করে তিনি তাঁর তলোয়ারের খাপের মধ্যে রেখে দিয়েছিলেন। এতে ব্যবহারিক কাজ-কর্ম সংক্রান্ত হুকুম আহকামের কয়েকটি হাদিছ লিখিত ছিল। (সূত্র-হাদিছ সংকলনের ইতিহাস; মু: আ: রহিম; ১ম সংস্করণ, সলামিক ফাউন্ডেশন; ৬ষ্ঠ প্রকাশ, পৃ: ২৯০-৩০০, খায়রূন প্রকাশনী;, পৃ: ২৯০ ও কোরান বনাম শরিয়ত


(ক) কোরআন বাদে আমি কি হাদীস দিয়ে ফায়সালা করবো?

(খ) কোরআন বাদে আমরা কি হাদীস দিয়ে ফায়সালা করছি না?

(গ) আমরা কি তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের নামে বেশীর ভাগ'ই

হাদীসের বয়ান করছি না?

কোরআনের পাশে হাদীসকে জুড়তে গিয়ে আলেমরা অনেক মতবাদ সৃষ্টি করেছে, তর্ক সৃষ্টি করেছে। সাড়ে তিন থেকে চার শত বছর মানুষের মুখে মুখে ধরে রাখা কথা যে রুপ কথার গল্প হতে পারে যা কেবলী আন্দাজ আর অনুমানের ভিত্তি ছাড়া বিশ্বাসের কোন পথ নাই। এই সম্পর্কেও কোরআনে আল্লাহ্



৫। সূরা ইউনুস ১০:৩৬ আয়াতে বলেছেনঃ

وَمَا يَتَّبِعُ أَكْثَرُهُمْ إِلاَّ ظَنًّا إَنَّ الظَّنَّ لاَ يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا إِنَّ اللّهَ عَلَيمٌ بِمَا يَفْعَلُونَ

অর্থঃ বস্তুতঃ তাদের অধিকাংশই শুধু আন্দাজ-অনুমানের উপর চলে, অথচ আন্দাজ-অনুমান সত্যের বেলায় কোন কাজেই আসে না। আল্লাহ ভাল করেই জানেন, তারা যা কিছু করে।

(ক) আমরা আজ যে হাদীস পড়ছি তা কি আন্দাজের উপর নয়?

(খ) হাদীস কি কখনো পৃথিবীতে লিখিত আকারে ছিলো? যে ভাবে কোরআন ছিলো?


পৃথিবীতে এত নবী রাসুল আসলো কেবল মুহাম্মাদের উম্মতদের বেলায় হাদীস দরকার হলো?

ক। ঈশা (আঃ) এর উম্মতদের হাদীস গ্রন্থের নাম কি?

খ।ইব্রাহীম (আঃ) এর উম্মতদের হাদীস গ্রন্থের নাম কি?

গ। ইসমাইল (আঃ) এর উম্মতদের হাদীস গ্রন্থের নাম কি?

ঘ। ঈশাহাক (আঃ) এর উম্মতদের হাদীস গ্রন্থের নাম কি?

ঙ। ইদ্রীশ (আঃ) এর উম্মতদের হাদীস গ্রন্থের নাম কি?

চ। ইয়াকুব (আঃ) এর উম্মতদের হাদীস গ্রন্থের নাম কি?

ছ। ইউসুফ (আঃ) এর উম্মতদের হাদীস গ্রন্থের নাম কি?

আসুন বোখারী সাহেবদের উম্মত না হয়ে প্রকৃত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উম্মতে পরিনত হই।

আল্লাহ্ কি বলেন চলুন দেখি:
পৃথিবীতে এর আগেও বহু নবী রাসুল এছেছিলো। তাদেরও চলা, কথা বলা এমন সব কিছুই সেই সব নবী রাসুলরা করেগেছে। কিন্তু তাদের উম্মতদের প্রয়োজনে সেই সব হাদীস গ্রন্থ কি ছেলো? সেই সব হাদীস গ্রন্থ কি আছে? অনুমান বড় গুনাহ্।

সূরা ইউনুস ১০:৩৬ আয়াতে আল্লাহ্ বলে

وَمَا يَتَّبِعُ أَكْثَرُهُمْ إِلاَّ ظَنًّا إَنَّ الظَّنَّ لاَ يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا إِنَّ اللّهَ عَلَيمٌ بِمَا يَفْعَلُونَ

অর্থঃ বস্তুতঃ তাদের অধিকাংশই শুধু আন্দাজ-অনুমানের উপর চলে, অথচ আন্দাজ-অনুমান সত্যের বেলায় কোন কাজেই আসে না। আল্লাহ ভাল করেই জানেন, তারা যা কিছু করে।



আল-হাদীস আর জাল হাদীস কোনটায় কোনআন সমর্থন করে না। আল্লাহ্ কেবলী তার কিতাবের কথা বলে এবং এও বলে যে এই কোরআনের সংরক্ষ সে নিজেই। আর হাদীস (মুখে মুখে চার শত বছর ধরে ছিলো) মানুষের লিখা এর সংরক্ষ সয়ং মানুষ নিজেই।

১। আল্লাহ্ কোরআনের সূরা কাহফ ১৮:২৭ আয়াতে বলেনঃ

وَاتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِن كِتَابِ رَبِّكَ لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَلَن تَجِدَ مِن دُونِهِ مُلْتَحَدًا

অর্থঃ আপনার প্রতি আপনার পালনকর্তার যে, কিতাব প্রত্যাদিষ্ট করা হয়েছে, তা পাঠ করুন। তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নাই। তাঁকে ব্যতীত আপনি কখনই কোন আশ্রয় স্থল পাবেন না।



২। সূরা ইয়াসিন ৩৬:৬৯ আয়াতঃ

وَمَا عَلَّمْنَاهُ الشِّعْرَ وَمَا يَنبَغِي لَهُ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ وَقُرْآنٌ مُّبِينٌ

অর্থঃ আমি রসূলকে (নিজস্ব কথা) কবিতা শিক্ষা দেইনি এবং তা তার জন্যে শোভনীয়ও নয়। এটা তো এক উপদেশ ও প্রকাশ্য কোরআন।

৩। সূরা আনকাবুত ২৯:৪৮ আয়াতঃ

وَمَا كُنتَ تَتْلُو مِن قَبْلِهِ مِن كِتَابٍ وَلَا تَخُطُّهُ بِيَمِينِكَ إِذًا لَّارْتَابَ الْمُبْطِلُونَ

অর্থঃ আপনি তো এর পূর্বে কোন কিতাব পাঠ করেননি এবং স্বীয় দক্ষিণ হস্ত দ্বারা কোন কিতাব লিখেননি। এরূপ হলে মিথ্যাবাদীরা অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করত।



আল্লাহ বলছে রাসুল তার নিজ হাতে কিছু লিখেনী। এইরকম কিছু লিখলে মুশরেক, মিথ্যাবাদীরা সন্দেহ পোষন করতো, বা বিতন্ডা করতো। কেন একজন সফল সয়ং সম্পূর্ণ রাসুল তার উম্মতদের জন্য হাদীস লিখলেন না তা ভাবতে হবে। কেনই বা তার চার জন খলিফা এই গুরু দায়ীত্ব পালন করলেন না। তবে কি তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে! নাকি হাদীস লিখা তাদের জন্য নিষেধ ছিলো? যারা নিজ হাতে কিতাব লিখে এবং তার বিনিময়ে কিছু অর্থ উপার্জন করে তাদের সম্পর্কেও কোরআন এর

৪। সূরা বাবারা ২:৭৯ আয়াতে বলেছেঃ

فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَـذَا مِنْ عِندِ اللّهِ لِيَشْتَرُواْ بِهِ ثَمَناً قَلِيلاً فَوَيْلٌ لَّهُم مِّمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَّهُمْ مِّمَّا يَكْسِبُونَ

অর্থঃ অতএব তাদের জন্যে আফসোস! যারা নিজ হাতে গ্রন্থ লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ-যাতে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ করতে পারে। অতএব তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের হাতের লেখার জন্য এবং তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের উপার্জনের জন্যে।

বললে অনেক বলা হবে, তবে এই রকম অনেক নবী রাসুল পৃথিবী থেকে বিদায় নিলো তাদের উম্মত গুলি কিসের ভিত্তিতে ইবাদত করলো বা চললো। অনুমানের চর্চা না করে কোরআনের সঠিক চর্চা করুন। 



Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Full-featured EPub generator