নামাজ ৫০ থেকে ৫ ওয়াক্ত
***********************
...............................................................
আমরা সকলেই জানি যে, মেরাজ থেকে ফেরার সময় নবি ৫০ ওয়াক্ত নামাজ নিয়ে ফিরছিলেন। পথের মধ্যে মুসা নবির পরামর্শে নবি হজরত আল্লাহর কাছে বার বার দরবার করে নামাজকে তিনি ৫০ থেকে ৫ ওয়াক্তে নিয়ে আসেন। এই ব্যাপারে আমার কয়েকটা প্রশ্ন মনের মাঝে উঁকি দেয় অনেক দিন ধরেই। উত্তর পেলে হয়তোবা আমি ইমান ফিরে পেতাম। কোন মুমিন ভাই উত্তর গুলো দিলে উপকৃত হতাম। প্রশ্ন--------উত্তর
***************************
প্রশ্ন::আল্লাহ নিজের কথা বহুবার রদবদল করেছেন অথচ আল্লাহ কোরানে বলেছেন "আল্লাহ কোন রদবদল করেন না।"( ৩৫ঃ৪৩)।তাহলে এমনটি তিনি কেন করলেন?

উত্তর:: (৩৫:৪৩) এর পুরা আয়াত দেওয়ার সাহস প্রশ্ন কারী পান নি।যাই হোক,আল্লাহ আয়াতে বলেছেন এর আগে অনেক জাতী পাপ কাজ করে ধংস হয়েছে, এখন যারা একই কাজ করবে তাদেরও একই শাস্তি হবে।এরপর তিনি বললেন আল্লাহর পদ্ধতিতে কোন পরিবর্তন পাবে না।এই কথার অর্থ হল একই অপরাধে দুই জনের দুইটা আলাদা শাস্তি হবে না।পদ্ধতি চেঞ্জ না হওয়ার কথা বলা আছে।আর ৫০ ওয়াক্ত যেভাবে পড়তে হত, পাচ ওয়াক্ত ও সেইভাবেই পড়তে হয়।এখানে পদ্ধতিগত কোন পরিবর্তন আনা হয় নি।

**********************
কোরান অনুযায়ী আল্লাহ বান্দাদের উপর সাধ্যাতীত দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না।কিন্তু প্রথমে সাধ্যাতীত দায়িত্ব চাপিয়ে পরে ভুল বুঝতে পারলেন। কেন?

উত্তর:: ৫০ ওয়াক্ত নামাজ সাধ্যাতিত নয়।এখানে তিনি ভুল বুঝার কিছু নাই।

*************************
আল্লাহ ও নবি হজরতের সিদ্ধান্তে অবজেকশন দেয়ার অপরাধে মুসা নবি কি "বেয়াদপ"এ পরিনত হলনা?

উত্তর:: আমাদের জন্য যেটা ভাল সেটাই আল্লাহ করে থাকেন।কিন্তু আমরা দোয়া করার মাধ্যমে রেজাল্টের পরিবর্তন চাই এটাকে অব্জেকশন বলে না।এটাকে করুনা ভিক্ষা চাওয়া বলে।
**********************
নবি হজরত এবং মুসা দুজনেই কি আল্লাহর আদেশ লঙ্ঘনকারী নয়?

উত্তর:: মালিকের কাছে চাচ্ছি,আমাদের মালিক চাইলেই খুশি হয়।যার কারনে তিনি কুরানে বিভিন্ন জায়গায় দোয়া করতে বলেছেন।তাই দোয়া করলে আল্লাহর আদেশ লংঘন করা হয় না
***********************
নবি মুসা কি মোহাম্মদ এবং আল্লাহর চেয়ে বিচক্ষন?

উত্তর:: বিচক্ষনতার ব্যাপার তখন আসে যখন দুই জনে প্রতিযোগিতা হয়।তখন বলা যায় কে বেশি বিচক্ষন।সৃষ্টিকর্তা তার বান্দাকে ইবাদাত করতে বললেন।রাসুল(স) কৃতজ্ঞতা বশত চুপ থাকলেন।আর মুসা(আ) তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন।এখানে বিচক্ষনতার প্রসংগ আনাই বোকামী।
***********************

যাই হোক বেচারা কে উত্তর দেওয়া হলে তিনি এবার মুল টপিক থেকে সরে গিয়ে উলটা পালটা প্রশ্ন করা শুরু করলেন।জানতাম এরকমই হবে।তারপরও তার উলটা পালটা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা হল

*****************
আল্লাহ কে?
::মহাবিশ্বের দৃশ্যমান বা অদৃশ্য যা কিছু আছে সেই সব কিছুর সৃষ্টি কর্তা।

*******************
তিনি কোথায় থাকেন?
:: সাত আসমান উপরে আরশে আজীমে সমুন্নত আছেন।

*************************
সে আমাদের থেকে কতদূরে?

::আমাদের জ্ঞান বিজ্ঞান এখনও এতো দুরত্ব পরিমাপ করতে পারেনি।কিন্তু কোরানে আল্লাহ বলেছেন ফেরেস্তারা এমন একদিনে আমার কাছে আসে যা তোমাদের হিসেবে পঞ্চাশ হাজার বছর।এটা আপেক্ষিক গতির ব্যাপার।কিন্তু এখানে বেগের মান কত সেটা উল্লেখ করা হয়নি বলে আমাদের পক্ষে এর সঠিক দুরুত্ব নির্নয় করা সম্ভব হয়নি।

*********************
**তার নাম রেখেছে কে?
::আল্লাহ নিজেই নিজের নাম রেখেছেন(সুরা ইখলাস-১)

*********************
**আল্লাহ শব্দের অর্থ কি?
::আল্লাহ শব্দের কোন অর্থ নাই।যিনি এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি কর্তা তেনাকেই আল্লাহ নামে ডাকা হয়।

***********************
**অর্থ না থাকলে তিনি এই নাম ব্যবহার করেন কেন?
::নামের অর্থ থাকতে হবে এমন প্রয়োজনীয়তা নাই।যেমন আগুন, পানি, বাতাস এগুলোর কোন অর্থ নাই শুধু সংগা আছে।তাই নাম রাখার জন্য যদি কেউ অর্থের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে তাহলে বুঝতে হবে তার জ্ঞানের পরিসীমা অনেক কম।

*********************
** আল্লাহর উচ্চতা কতটুকু? তার ভর কত? তার ওজন কত? আল্লাহ বড় নাকি তার থাকার স্থান বড়? আল্লাহর কি নিঃশ্বাস গ্রহন করতে হয়? নিঃশ্বাস গ্রহন করলে তিনি কি ধরনের গ্যাস গ্রহন করেন? আল্লাহর কি প্রাণ আছে? তিনি কি প্রাণী?
এত বড় মহাবিশ্ব সৃষ্টি করে তার লাভ/প্রয়োজন কি? তার ইবাদতের প্রয়োজন হয় কেন?তিনি কিভাবে নিজে নিজে সৃষ্টি হয়েছেন? চিরকাল ধরেই বা কিভাবে থাকেন যদি সৃষ্টি না হন?

::::উত্তর:::
আমাদের জ্ঞান বিজ্ঞান এই প্রশ্ন গুলো দেওয়ার মত যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি এখনও।আমাদের বিজ্ঞান আমাদের এই মহাবিশ্বের যা আছে তার ১% ও নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনা।সে জ্ঞান কিভাবে মহাবিশ্বের বাইরের বিষয় বলবে।?তবে বিজ্ঞান ধীরে ধীরে সৃষ্টিকর্তা থাকার পিছনে যুক্তি খুজে পাচ্ছে।এবং বিজ্ঞানী গন কেউ কেউ সৃষ্টিকর্তাকে গনিত বীদও বলেও সম্বোধন করেছেন।

********************
***আল্লাহ যদি নিজে নিজে সৃষ্টি হতে পারে, তাহলে পৃথিবীতে প্রাণীর উদ্ভব কেন একা একা সৃষ্টি হতে পারবেনা?

:::আল্লাহ থাকার পক্ষে যুক্তি থাকলেও প্রাণী একা সৃষ্টি হওয়ার পিছনে বিজ্ঞান কোন যুক্তি দেখাতে পারেনা। শুধু যুক্তিই নয় উদ্দেশ্যও দেখাতে পারেনা।

**************************
***আল্লাহ কি আহার করেন? যদি তিনি আহার ছাড়াই বেচে থাকতে পারে তাহলে তার ইবাদতের ভুখা কেনো? তার ইবাদতের প্রয়োজন কেন?

::ইবাদাত তেনার খিদা নিভারন করেনা।তাই বলা যায় তিনি ইবাদাতের ভুখা এই কথা ভুল।আমাদের যে সকল ইবাদাত করতে বলা হয়েছে সেগুলো আমাদের জন্য উপকারী,তেনার কোন উপকারে আসেনা।যেমন নামাজ আমাদের শারিরিক ফিটনেস ঠিক রাখে।রোজার উপকারীতা বলার অপেক্ষা রাখেনা।এখন মুস্লিমদের ভাইরেই অনেকে উপবাস থাকে।যাকাত আল্লাহর কোন কাজে আসেনা।জনগনের কাজে আসে।কুরবানীর মাংস, রক্ত কোনটাই আল্লাহর কাছে পৌছায় না।এক ভাগ যায় আত্মীয় এর কাছে, এক ভাগ এলাকার গরীব দুখির কাছে বাকি এক ভাগ সনতান সন্ততির কাছে।

************************
*** আল্লাহ কি হাটাচলা করেন? নাকি বসে থাকেন? নাকি শুয়ে থাকেন? নাকি ঘুমিয়ে থাকেন? নাকি দৌড়াদৌড়ি করেন?

::তিনি কি করেন আমাদেত জানান নি।তিনি আমাদের যতটুকু জ্ঞান দিয়েছেন এর বাইরে মানূষের পক্ষে চিন্তা করা সম্ভব নয়

************************
***তার নাকি ঘুমের প্রয়োজন হয়না। কেন?
:::তিনি আমাদের মত ইন্দ্রিয় সর্বোশ্য নয়।তাই প্রয়োজন হয়না।

*************************
তিনি যদি বিয়ে না করেন, খাবার না খান, হাটাচলা না করেন, না ঘুমান, তাহলে তার বেঁচে থাকার অর্থটা কি?

:::নিজের উপস্থিতিকে অর্থবহুল করার জন্য তিনি সৃষ্টিতে মনোনিবেশ করেছেন

****************************
***তিনি মানুষকে ভয় দেখিয়ে কেন সৎপথে আসতে বলেন? তিনি চাইলে তো সব পারেন, তবে কেন তিনি মানুষের উপর নির্ভরশীল ?

::::মানুষ সৎ পথে আসলেও তেনার কোন উপকার নাই,না আসলেও তার কোন ক্ষতি নাই।তিনি চাইলেই সব কিছু করতে পারেন। কিন্তু মানুষ কে সৃষ্টি করা হয়েছে স্বাধীন ইচ্ছা শক্তি দ্বারা, তাই তিনি এখানে হস্তক্ষেপ করেন না। আর তিনি মানুষ কেনো, কারো উপরই নির্ভশীল নন।

*****************************
*****মুহাম্মাদের মত অশিক্ষিতকে কেন তিনি নবুওত দিলেন? এই যুগের শ্রেষ্ঠ কোন বিজ্ঞানীকে কেন নবুওত দিলেন না?

::::খুব সুন্দর প্রশ্ন। একজন শিক্ষিত এবং বিজ্ঞানীর কাছে আল্লাহর কুরান আসলে অনেকেই বলত তিনি এসব নিজের জ্ঞানে লিখেছেন।কিন্তু একজন প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে অশিক্ষিত ব্যাক্তির কাছে কুরান আসার পর এই কথা বলার সুযোগ আর থাকছে না।

বিজ্ঞানীর কাজ হল শুধু গবেষনা করা,সমাজে এর কিরুপ ব্যবহার হবে,ভাল না খারাপ এগুলো দেখার বিষয় নয়।কিন্তু কুরান নাজিলের উদ্দেশ্য হলো এমন সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা বা আইন ব্যবস্থা কায়েম করা যাতে সমাজে শান্তি বজায় থাকে।

আজ পর্যন্ত কতজন বিজ্ঞানী শান্তিতে নোবেল পাইছে।?কারন এইসব কাজ তাদের নয়।তাই কুরান তারা ডিসার্ব করে না।বিজ্ঞানীদের কাজ আর কোরানের উদ্দেশ্য ভিন্ন।

**************************
*****ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার জন্য আল্লাহ কেন মুহাম্মাদকে এত বিয়ে করালেন?

::::আমরা মানুষ কিন্তু আমাদের চলতে হয় সামাজিক নিয়ম মেনেই।তাই দুই গোত্রের মধ্যে ভাল সম্পর্ক তৈরি করা,নতুন নিয়ম চালু করা ইত্যাদির বেলায় বিবাহ একটা গুরুত্ব পুর্ন সমাধান।

**********************
***কেন দাসী বৈধ করলেন?এর দ্বারা কি বলা যায় না আল্লাহ নিকৃষ্ট?
::::::যুদ্ধ বন্দি দাসিদের সম্মান দেওয়ার জন্য তাদের বিবাহ করা উত্তম।দাসিদের বিয়ের ব্যাবস্থা করলে যদি কাউকে নিকৃষ্ট বলা হয়,তাহলে আর কিছু বলার থাকেনা।দাসির সন্তানকে উত্তরাধিকার বানালে যদি নিকৃষ্ট হতে হয় তাহলে তো আর কিছু বলার থাকেনা।

Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Free HTML Help documentation generator