মুসলমান হওয়ার জন্য খাতনা করা বাধ্যতামূলক। শরিয়ত নিয়ম দেখুন শারিয়া আইন ই ৪.৩ (উমদাত আল সালিক, পৃঃ ৮৫৯)। সুনান আবু দাউদ, বই ৪১ হাদিস ৫২৫১:। কেন স্রষ্টার দেয়া সুন্দর আকৃতি বদলে মুসলমান হতে হয়?


জবাব :


মুসলমানদের খাতনা করা বাধ্যতামূলক অর্থাৎ ফরজ বা ওয়াজিব নয়। এটি সুন্নত। অর্থাৎ কেউ না করলে পাপা নেই কিন্তু করলে সওয়াবের হকদার হবেন!তবে বিষয়টি যেহেতু পবিত্রতার সাথে সম্পর্কযুক্ত তাই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
তাহলে কেন মুসলমানরা করে খাতনা?
আমরা জানি পবিত্রতা ঈমানের অংগ! পবিত্রতা ছাড়া ইবাদত গ্রহনযোগ্য নয়। যেকোন ইবাদতের প্রথম শর্ত পবিত্রতা! আর এই পবিত্রতার পথে বাধা সৃষ্টি করে বাড়তি ঐ চামড়া টুকু! এই চামড়াটুকু থাকা অবস্থায় পবিত্র হওয়া অত্যন্ত কষ্ট সাধ্য। কেননা এতে পস্রাব ও অন্যান্য নাপাকি লেগে থাকে যা পরিষ্কার করা সময় সাপেক্ষ! আর এক্ষেত্রে পবিত্র হতে পানি অপরিহার্য! অথচ আমরা জানি সর্বাবস্থায় পানি পাওয়া সম্ভব নয়!
এজন্যই সহজে পবিত্রতা অর্জনের জন্য মুসলমানরা খাতনা করে থাকে!

যদি কোন ব্যাক্তি খাতনা না করে পবিত্রতা অর্জন করতে পারে তবে তাকে ইসলাম খাতনা করতে বাধ্য করেনা!


এখন প্রশ্ন হচ্ছে যেহেতু পবিত্রতা অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে সেহেতু জন্ম থেকে মাওলা এই বাড়তি চামড়া দিলেন কেন?
আচ্ছা কলাতো সবাই খেয়েছেন! কলার উপরের আবরনটি কেন থাকে?


উত্তর: কলাকে প্রটেক্ট করার জন্য। তা নাহলে কলা ক্ষতিগ্রস্ত হত।


আমরা জানি শিশুদের তক অত্যন্ত নাজুক ও কোমল থাকে! ফলে এইসময় সামান্য আচড়ই তাদের তকে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। আর বিশেষ সেই অংগটিতো আরো নাজুক থাকে। এসময় যদি এটি উম্মুক্ত থাকত তবে খুব সহজে সামান্য কাপড়ের ঘষাতেই এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেত!

ঠিক এজন্যই মাওলা এই বাড়তি চামড়া দিয়ে একে ঢেকে রাখেন। যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়!


তাহলে পড়ে কেন কাটতে বলেন?


পাক পবিত্রতার মাসালাটি শিশুদের জন্য প্রযোজ্য নয়। যখন সে শরীয়ত অনুযায়ী ইবাদত করার বয়সে পৌছাবে তখনি পবিত্রতার প্রশ্নটি সামনে আসে আর তখনি খাতনা করার প্রয়োজনীয়তার প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। আর সে সময় সেই অংগটি আর নাজুক থাকেনা আগের মত যখন সে শিশু ছিল। আর তাই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকাও থাকেনা!
সুবাহানাল্লাহ!! এটাই মাওলার বিশেষত্ব! নিশ্চয়ই তিনি সকল কারিগরের চেয়ে উত্তম কারিগর।

কেন করা হয় খতনাঃ

ধর্মীয় কারণে মুসলমান,ইহাহুদী ও খ্রিস্টানরা খতনা করিয়ে থাকে। কিছু কিছু রোগ হলে যেমন ফাইমোসিস, প্যারাফাইমোসিস হলে খতনা বা মুসলমানি করাতে হয়। ফাইমোসিস হলো পুরুষাঙ্গের মাথার দিকের চামড়া এমনভাবে মূত্রনালীকে ঢেকে রাখে, যার কারণে প্রস্রাব ঠিকমতো বের করতে পারে না।

প্রস্রাব বের হতে না পেরে পুরুষাঙ্গের মাথা ফুলে ওঠে এবং শিশু ব্যথায় কান্নাকাটি করতে থাকে। এভাবে বেশিদিন চলতে থাকলে প্রস্রাবে ইনফেকশন, এমনকি কিডনি ফেইলিওরও হতে পারে। আবার অনেক সময় পুরুষাঙ্গের মাথার দিকের চামড়া উল্টে গিয়ে টাইট হয়ে যায়। যার ফলে চামড়াকে আর সামনে ও পেছনের দিকে নাড়াচাড়া করা যায় না। এক্ষেত্রে মাথার দিকে ফুলে যায় এবং রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়। উভয় ক্ষেত্রেই জরুরি ভিত্তিতে খতনা করানো প্রয়োজন। অনেক সময় ছোট শিশুদের পুরুষাঙ্গ প্যান্টের চেইনের সঙ্গে আটকে যেতে পারে। এরকম পরিস্থিতিতেও অনেক সময় খতনা করানো হয়।

খতনার উপকারিতাঃ

জেনে হয়তো অবাক লাগবে, খতনার কিন্তু উপকারিতাও আছে! সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতাটি হলো, খতনা করে পুরুষাঙ্গের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, শুধুমাত্র খতনার কারণেই এ ক্যান্সার মুসলমান ও খ্রিস্টানদের মধ্য নেই বললেই চলে। পুরুষাঙ্গের মাথার বাড়তি চামড়ার নিচে এক ধরনের সাদা পদার্থ জমে এবং এটিই পুরুষাঙ্গের ক্যান্সারের জন্য দায়ী।
বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের অভিমত হচ্ছে--
Evidence supports that male circumcision reduces the risk of HIV infection among heterosexual men in sub-Saharan Africa.[10][11] Therefore, the WHO recommends considering circumcision as part of a comprehensive HIV prevention program in areas with high rates of HIV, such as Sub Saharan Africa.[12] Evidence for a health benefit against HIV for men who have sex with men is less clear.[13][14] Additionally, the effectiveness of using circumcision to prevent HIV in the developed world is also unclear.[15] Circumcision in general is associated with reduced rates of cancer causing forms of HPV[16][17] and risk of both UTIs and cancer of the penis.[4] Prevention of those conditions is not a justification for routine circumcision of infants.[1][18] Studies of its potential protective effects against other sexually transmitted infections have been unclear. A 2010 review of literature found circumcisions performed by medical providers to have a typical complication rate of 1.5% for babies and 6% for older children, with few cases of severe complications.[19] Bleeding, infection and the removal of either too much or too little foreskin are the most common complications cited.[19] Complication rates are higher when the procedure is performed by an inexperienced operator, in unsterile conditions, or when the child is at an older age.[19] Circumcision does not appear to have a negative impact on sexual function.[20][21]

কখন খতনা করাবেন নাঃ

হাইপোস্পেডিয়াসিস রোগে খতনা করানো যায় না। এটি পুরুষাঙ্গের জন্মগত ত্রুটি। এতে প্রস্রাবের নালী পুরুষাঙ্গের মাথায় না থেকে নিচের দিকে থাকে। এক্ষেত্রে চিকিত্‍সা করাতে হয় এবং খতনা করানোর আগে এ জন্মগত ত্রুটি ঠিক করাতে হয়।

Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Free CHM Help documentation generator