মহাশূন্য বায়ুশূন্য, সেখানে জিব্রাঈল কিভাবে পাখা ব্যাবহার করে? এটাতো বিজ্ঞানসম্মত নয়।


বিষয়টি জানতে হলে আমাদের জানতে হবে মহাকাশে গতিশীল বস্তু কিভাবে চলে!!
আমরা জানি আধুনিক বিজ্ঞান আজ মহাশূন্য জয় করেছে!! মহাশূন্য জয়ে তাদের অন্যতম হচ্ছে রকেট!! রকেট মহাশূন্যে কিভাবে চলে?

রকেট যেভাবে চলেঃ
আমাকে কেউ একজন বলেনতো মোটর কিংবা ইঞ্জিনের কথা ভাবতেই আমাদের চোখের সামনে কি ভেসে উঠে? ঘুরন্ত কিছু একটা ভেসে উঠে। এই যেমন আমরা যদি পেট্রোল চালিত একটি গাড়ীর ইঞ্জিনের দিকে দৃষ্টি দেই তাহলে দেখব ইঞ্জিনটি ঘূর্ণনশক্তি সৃষ্টির মাধ্যমে গাড়ীটির চাকাগুলোকে ঘুরাচ্ছে।


যদি একটি বৈদ্যুতিক পাখার দিকে তাকাই তাহলে দেখবে বৈদ্যুতিক মোটর ঘূর্ণনশক্তি সৃষ্টি করে পাখাটার পাতগুলোকে ঘুরাচ্ছে। ঠিক একইভাবে বাষ্পচালিত ইঞ্জিন, বাষ্পচালিত টার্বাইন, গ্যাস টার্বাইনও এই ঘূর্ণন শক্তির উপর নির্ভর করেই কাজ করে।


তবে রকেট ইঞ্জিন চলে বেশ ভিন্ন উপায়ে। নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্রের কথা নিশ্চয়ই সবাই জানেন…

যে প্রত্যেক ক্রিয়ার রয়েছে একটি সমান কিন্তু বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া… এটা ব্যবহার করে চলে রকেট।

জ্বালানী পুড়িয়ে উৎপন্ন শক্তি দিয়ে রকেট ভূমিকে ধাক্কা দেয় এবং প্রতিক্রিয়া হিসেবে ভুমি সেটিকে ধাক্কা দেয়। আর ধাক্কা খেয়েই বিপুল বেগে সামনের দিকে আগায় রকেট।


রকেট যে সুত্রে চলে "নিউটনের তৃতীয় সুত্র" -তা মহাশূন্যে কিভাবে কাজ করে?


পৃথিবী থেকে যাবার সময় পৃথিবীকে ধাক্কা দিয়ে প্রতিক্রিয়ায় রকেট মহাশূন্যে গেল, কিন্তু মহাশূন্য পুরোটাই খালি, সেখানে একটা রকেট কিভাবে ক্রিয়া করে প্রতিক্রিয়া স্বরূপ গতি বাড়ায় ?


মহাশুন্যে একটা রকেট কিন্তু নিউটনের ৩ টা সুত্র আলাদালাদাভাবে মেনে চলে ,যখন ইঞ্জিন বন্ধ অবস্থায় চলে তখন ১ম ,চালু অবস্থায় ২য় এবং ৩য় দুটি মেনে চলে !

(নিউটনের গতির ১ম সূত্র: ” বাহ্যিক কোন বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে”।
২য় সূত্র: “বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে?”
৩য় সূত্র: “প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে”।)

এখানে যে বলা হলো মোমেন্টাম পরিবর্তন করে চলে কিন্তু ৩য় সুত্র মানেনা তার কারণ ক্রিয়া-প্রিতিক্রিয়ার জায়গা নেই তা কিন্তু হওয়া একেবারেই অবাস্তব কারণ, মোমেন্টাম ফর্মুলা কিন্তু আসে সেই নিউটনের ৩য় এবং ২য় সুত্র থেকেই ! এই যেমন -আমরা কখনো বলতে পারিনা আমাদের শুধু ডেঙ্গু হয়েছে কিন্তু জ্বর হয়নি !! ঘটনাটা বুঝতে সুবিধা হবে যদি আমরা ছোটবেলার সেই বন্দুকের গুলির অংক চিন্তা করে রাখি ! এর সাথে ওটার মিল রয়েছে ! বিষয়টা এরকম দুটোরই ফার্স্ট মোমেন্টাম শুন্য তার মানে শেষ মোমেন্টাম দুটো সমান আর বিপরীতমুখী হবে !! (এখানে ধরে নেই মহাশুন্যে রকেট টা স্থির হয়ে রয়েছে এরপর হটাত করে ইঞ্জিন চালু করে চলা শুরু করলো !) এখানেও ঠিক তাই I রকেট থেকে নির্দিষ্ট বেগে গ্যাস বের হলো তার একটা ভর রয়েছে যেহেতু অপসিট একটা মোমেন্টাম রয়েছে এবং রকেটের ভর নির্দিষ্ট তার মানে সে একটা বেগ পাবে !! মানে রকেটের মোমেন্টাম MV এবং জ্বালানির mv হলে MV = (-) mv ! তার মানে গ্যাসের ভর ১ কেজি এবং বেগ ১ m/s এবং রকেটের ভর ১০০ কেজি হলে বিপরীত বেগ হলো .০১ m/s ! এভাবে আমরা চাইলে যেকোনো হিসেব করতে পারি ,চালিয়ে যেতে পারি !!

এবার খেয়াল করুনঃ
জিব্রাঈল (আঃ)এর মহাশূন্যে চলাচল উপরূক্ত তথ্য অনুযায়ী কি বিজ্ঞানসম্মত নয়?
জিব্রাঈল(আঃ) তার ডানা দিয়ে ব্যাপক গতি উৎপাদন করে মহাশূন্যে যখন পৌছে যাবেন তখন তিনি দুটি সমস্যার সম্মুখীন হবেন-
১) মহাশূন্যের বায়ু শূন্যতা
২) অতিরিক্ত তাপ।
নিউটনের ১ম সূত্র অনুযায়ী তিনি সেখানে চলতেই থাকবেন কারন শূন্যস্থান হওয়াতে সেখানে তার গতি থামবেনা বা স্থির হবেনা!! তিনি ততটা গতিতেই চলবেন যতটা গতিতে চলছিলেন!!
আর উচ্চতাপ তার কোন ক্ষতি করবেনা কারন ফেরেস্তারা নূর বা আলোর তৈরি!
আর কোন কারনে যদি মহাশূন্যে তার গতি থেমেও যায় তবুও তার সমস্যা হবেনা কারন তার অসংখ্য ডানা দিয়ে তিনি সেভাবেই গতি উতপন্ন করতে সক্ষম যেভাবে রকেট মহাশূন্যে গতি উৎপন্ন করে!!


Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Generate Kindle eBooks with ease