পৃথিবীতে ধর্মের অভাব নাই!


জবাব :


স্রষ্টার ধারণার উপর ভিত্তি করে মাত্র দুটি ধর্ম আছে -

ধর্ম প্রসঙ্গ উঠলেই ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞ কিংবা ভণ্ড প্রকৃতির নাস্তিকরা অসংখ্য (হাজার হাজার) ধর্মের কথা বলে অসচেতন লোকজনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। এমনকি এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার প্রসঙ্গ উঠলেও অসংখ্য স্রষ্টা (!) থাকার সম্ভাবনার কথা বলে পানি ঘোলা করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই মহাবিশ্বের 'অসংখ্য স্রষ্টা' থাকার ব্যাপারটা যে চরম হাস্যকর ও অযৌক্তিক, তা অনেকেই অনেক ভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। যাইহোক, স্রষ্টার ধারণার উপর ভিত্তি করে এই পৃথিবীতে মাত্র দুটি ধর্ম আছে:

১. অদৃশ্য স্রষ্টার উপর ভিত্তি করে ধর্ম (যেমন: জুদাইজম ও ইসলাম)।

২. দৃশ্যমান তথা মানব'রূপী স্রষ্টার উপর ভিত্তি করে ধর্ম (যেমন: হিন্দুইজম ও খ্রিস্টানিটি)।

বাকি সবগুলো ধর্ম আসলে এই দুটি ধর্মেরই বিভিন্ন রূপ। তবে ধর্ম দুটি একেবারে মৌলিক বিষয়ে সরাসরি সাংঘর্ষিক বিধায় একই সাথে সত্য হতে পারে না, যেকোনো একটি সত্য হবে কিংবা দুটোই মিথ্যা হতে পারে। যুক্তিবাদী ও সত্য সন্ধানীদের কাছে চ্যালেঞ্জটা এখানেই। সর্বপ্রথমে এই জায়গাতেই ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কোন্‌ স্রষ্টার ধারণায় বিশ্বাস করতে চান।

আপনি কি অদৃশ্য স্রষ্টায় বিশ্বাস করতে চান, নাকি স্রষ্টাকে স্বচক্ষে দেখে [পাদ্রী-পুরোহিতরা যেভাবে দেখাচ্ছেন এবং নাস্তিকরা তা স্বচক্ষে দেখেও না দেখার ভান করছে!] বিশ্বাস করতে চান?

উল্লেখ্য যে, নাস্তিকরা কিন্তু মানব'রূপী স্রষ্টাকে (যেমন: কৃষ্ণ ও যীশু) স্বচক্ষে দেখেও মেনে না নেওয়ার পেছনে কোনো যুক্তি দেয় না। তারা অদৃশ্য স্রষ্টার অনস্তিত্বের পক্ষে অসংখ্য 'যুক্তি-প্রমাণ' দিলেও দৃশ্যমান স্রষ্টা সম্পর্কে পুরোপুরি চেপে যাওয়া নীতি অনুসরণ করে! আরো মজার বিষয় হচ্ছে একদিকে পাদ্রী-পুরোহিতরা তাদের স্রষ্টাকে দেখিয়ে অদৃশ্য স্রষ্টায় বিশ্বাসীদেরকে 'অন্ধ বিশ্বাসী' বলে সমালোচনা করে, অন্যদিকে আবার নাস্তিকরাও পাদ্রী-পুরোহিতদের দেখানো স্রষ্টাকে সুকৌশলে এড়িয়ে যেয়ে অদৃশ্য স্রষ্টায় বিশ্বাসীদেরকে 'অন্ধ বিশ্বাসী' বলে উপহাস-বিদ্রূপ করে। পাদ্রী-পুরোহিতদের সাথে নাস্তিকদের কী অপূর্ব মিল! অসচেতন লোকজনকে বিভ্রান্ত করার কী অদ্ভুত কৌশল!



Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Easily create EBooks