মুসলিমরা অন্য ধর্মকে সম্মনা তো করেই না বরং হিন্দুদের পূজার মর্তি ভাংচুর করে বেড়ায়!


জবাব :


মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ কাতারে হিন্দু জনসংখ্যা ১৩.৮%, কুয়েতে ১২%, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১১-২১%, মালয়েশিয়াতে ৬.৩%, ওমানে ৩-৫.৭%, ইন্দোনেশিয়াতে ১.৭%, তাঞ্জানিয়াতে ১%, ইয়েমেনে ০.৭%, সৌদি আরবে ০.৬-১.১%। মুসলিম-অধ্যুষিত আরো কিছু দেশেও অল্প সংখ্যক করে হিন্দু আছে। [সূত্র: https://en.wikipedia.org/wiki/Hinduism_by_country]

এতগুলো মুসলিম-অধ্যুষিত দেশে কম-বেশি হিন্দু থাকা সত্ত্বেও আপনারা কি কখনো এই দেশগুলোতে হিন্দুদের মূর্তি ভাঙ্গার কথা শুনেছেন? হিন্দুদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার কথা শুনেছেন? হিন্দুদের জমি দখল করার কথা শুনেছেন? হিন্দুদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা শুনেছেন? মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে দেশ ছাড়ার কথা শুনেছেন? কোটি কোটি বা লাখ লাখ হিন্দু গায়েব হয়ে যাওয়ার কথা শুনেছেন? এই সবগুলো প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, "না"।

তার মানে বাংলাদেশে হিন্দুদের যে সমস্যা-অভিযোগগুলোর কথা শোনা যায় সেগুলো মূলত বাংলাদেশের আভ্যন্তরীন সমস্যা। এগুলোর সাথে: ১মত- ইসলামের কোনো সম্পর্ক নাই, ২য়ত- ব্যাপারটা "হিন্দু বনাম মুসলিম" ইস্যু না। এই দিনের আলোর মতো সত্যকে যদি বাংলাদেশের হিন্দুরা না বুঝার ভান করে সাম্প্রদায়িক মনোভাব থেকে এগুলোর জন্য ইসলাম ও মুসলিমদেরকে দায়ি করা অব্যাহত রাখে, তাহলে এই সমস্যাগুলোর কখনো সমাধান হবে বলে মনে হয় না।

এবার বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আসা যাক-

১. আপনারা কি কখনো আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কিংবা বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কিংবা অভিজিৎ রায়ের বাবা ড. অজয় রায়ের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়া কিংবা জায়গা-জমি দখল করে নেওয়ার কথা শুনেছেন? কখনো কি অন্য কোনো প্রভাবশালী হিন্দু নেতার বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়া কিংবা জায়গা-জমি দখল করে নেওয়ার কথা শুনেছেন? এমনকি আপনারা কি কখনো শহর এলাকার কোনো হিন্দুর বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়া কিংবা জায়গা-জমি দখল করে নেওয়ার কথা শুনেছেন? এই সবগুলো প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, "না"।

তার মানে বাংলাদেশে হিন্দুদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়া কিংবা জায়গা-জমি দখলের ঘটনাগুলো ঘটে গ্রামাঞ্চলের খেটে খাওয়া লোকজনের উপর। এগুলো মূলত দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলোর পেছনে থাকে রাজনৈতিক নেতা কিংবা এলাকার প্রভাবশালী লোকজন। এইটা প্রমাণিত সত্য।

২. আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া মুসলিম-অধ্যুষিত আর কোনো দেশে হিন্দুদের মূর্তি ভাঙ্গা কিংবা বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার কথা শোনা যায় না। এমনকি পাকিস্তানেও না! বাংলাদেশে খুনী, ধর্ষক, চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী তথা সকল প্রকার অপরাধীই পুলিশের কাছে কিংবা জনতার হাতে ধরা পড়ে। পেপার-পত্রিকাতে তাদের ছবি-সহ নিউজ আসে। এমনকি টুপি-দড়িওয়ালা বেশ কিছু মাদ্রাসার হুজুর ও ঈমামও বিভিন্ন অপরাধ করতে যেয়ে ধরা পড়েছে। পেপার-পত্রিকাতে তাদের ছবি-সহ ফলাও করে নিউজ এসেছে।

কিন্তু আপনারা কি কখনো হিন্দুদের মূর্তি ভাঙ্গার সময় কিংবা বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দিতে যেয়ে কাউকে হাতেনাতে ধরা পড়তে দেখেছেন? অথবা পুলিশের কাছে হাতেনাতে কিংবা পরবর্তীতে ধরা পড়ে পত্রিকায় ছবি-সহ নিউজ হতে দেখেছেন? না! তার মানে তথাকথিত মূর্তি ভাঙ্গা ও বাড়ি-ঘর পোড়ানোর ঘটনাগুলো আসলে স্যাবোট্যাজ। এজন্য 'অপরাধী' কখনো ধরা পড়ে না! ব্যাপারটা নিয়ে কখনো ভেবে দেখেছেন কি? নাকি আপনারা এগুলোর জন্য ইসলামের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিতে পেরেই খুশী?

Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Create help files for the Qt Help Framework