কোরানে উত্তরাধিকার আইনে গাণিতিক ভুল!


জবাব:


ইসলামী শাস্ত্র অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি উত্তরাধীকারীদের মাঝে নির্ধারিত অংশ অনুযায়ী ভাগ দেওয়াকে ফরায়েজ বলে।
১৪০০ বছর ধরে ইসলামী শাস্ত্র অনুযায়ী এভাবে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তির বন্টন করা হচ্ছে। এত বছর ধরে মুসলমানরা সম্পত্তির বন্টন করে আসছে, তারা কোনো গাণিতিক ভুল পেল না?

তারা দুইটি আয়াত দিয়ে যুক্তি প্রদান করেছে।তাদের দাবি করা আয়াতসমূহ নিচে উল্লেখ করছিঃ


সূরা আন নিসা:11 – আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আদেশ করেনঃ একজন পুরুষের অংশ দুজন নারীর অংশের সমান। অতঃপর যদি শুধু নারীই হয় দু` এর অধিক, তবে তাদের জন্যে ঐ মালের তিন ভাগের দুই ভাগ যা ত্যাগ করে মরে এবং যদি একজনই হয়, তবে তার জন্যে অর্ধেক। মৃতের পিতা-মাতার মধ্য থেকে প্রত্যেকের জন্যে ত্যাজ্য সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ, যদি মৃতের পুত্র থাকে। যদি পুত্র না থাকে এবং পিতা-মাতাই ওয়ারিস হয়, তবে মাতা পাবে তিন ভাগের এক ভাগ। অতঃপর যদি মৃতের কয়েকজন ভাই থাকে, তবে তার মাতা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ ওছিয়্যতের পর, যা করে মরেছে কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে তোমাদের জন্যে অধিক উপকারী তোমরা জান না। এটা আল্লাহ কতৃক নির্ধারিত অংশ নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, রহস্যবিদ।

An-Nisaa :11:Allah instructs you concerning your children: for the male, what is equal to the share of two females. But if there are [only] daughters, two or more, for them is two thirds of one’s estate. And if there is only one, for her is half. And for one’s parents, to each one of them is a sixth of his estate if he left children. But if he had no children and the parents [alone] inherit from him, then for his mother is one third. And if he had brothers [or sisters], for his mother is a sixth, after any bequest he [may have] made or debt. Your parents or your children – you know not which of them are nearest to you in benefit. [These shares are] an obligation [imposed] by Allah. Indeed, Allah is ever Knowing and Wise.



উক্ত আয়াতের বন্টনগুলো নিম্নরুপঃ
১.একজন পুরুষ পাবে দুইজন নারীর সমান।
২.শুধু মেয়ে সন্তান দুই এর অধিক হলে তারা পাবে সম্পত্তির ২/৩ অংশ।
৩.মেয়ে একজন হলে সে পাবে সম্পত্তির অর্ধেক।
৪.মৃতের পুত্র থাকলে মা-বাবা প্রত্যেকে পাবে ১/৬ অংশ।
৫.পুত্র না থাকলে মাতা পাবে ১/৩ অংশ।
৬.মৃতের কয়েকজন ভাই থাকলে মা পাবে ১/৬ অংশ।


এবার দ্বিতীয় আয়াতটি দেখিঃ

সূরা আন নিসা:12 – আর, তোমাদের হবে অর্ধেক সম্পত্তি, যা ছেড়ে যায় তোমাদের স্ত্রীরা যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে। যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তোমাদের হবে এক-চতুর্থাংশ ঐ সম্পত্তির, যা তারা ছেড়ে যায়; ওছিয়্যতের পর, যা তারা করে এবং ঋণ পরিশোধের পর। স্ত্রীদের জন্যে এক-চতুর্থাংশ হবে ঐ সম্পত্তির, যা তোমরা ছেড়ে যাও যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তাদের জন্যে হবে ঐ সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ, যা তোমরা ছেড়ে যাও ওছিয়্যতের পর, যা তোমরা কর এবং ঋণ পরিশোধের পর। যে পুরুষের, ত্যাজ্য সম্পত্তি, তার যদি পিতা-পুত্র কিংবা স্ত্রী না থাকে এবং এই মৃতের এক ভাই কিংবা এক বোন থাকে, তবে উভয়ের প্রত্যেকে ছয়-ভাগের এক পাবে। আর যদি ততোধিক থাকে, তবে তারা এক তৃতীয়াংশ অংশীদার হবে ওছিয়্যতের পর, যা করা হয় অথবা ঋণের পর এমতাবস্থায় যে, অপরের ক্ষতি না করে। এ বিধান আল্লাহর। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।

An-Nisaa :12: And for you is half of what your wives leave if they have no child. But if they have a child, for you is one fourth of what they leave, after any bequest they [may have] made or debt. And for the wives is one fourth if you leave no child. But if you leave a child, then for them is an eighth of what you leave, after any bequest you [may have] made or debt. And if a man or woman leaves neither ascendants nor descendants but has a brother or a sister, then for each one of them is a sixth. But if they are more than two, they share a third, after any bequest which was made or debt, as long as there is no detriment [caused]. [This is] an ordinance from Allah, and Allah is Knowing and Forbearing.


১.সন্তান না থাকলে স্বামী তার স্ত্রীর সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবে।
২.সন্তান থাকলে পাবে ১/৪ অংশ।
৩.সন্তান না স্ত্রী তার স্বামীর সম্পত্তির পাবে ১/৪ অংশ।
৪. সন্তান থাকলে পাবে ১/৮ অংশ।
৫.পিতা,পুত্র,স্ত্রী না থাকলে যদি এক ভাই-এক বোন থাকে,তারা পাবে ১/৬ অংশ।
৬.তারা ততোধিক হলে পাবে ১/৩ অংশ।


উপরের সকল শর্ত থেকে আমরা দেখলাম যে, সম্পত্তির এ বন্টনগুলো একেক শর্তের ক্ষেত্রে একেক রকম। সবগুলো একে অপরটির সাথে সম্পর্কিত নয়। যেমনঃ মেয়ে সন্তান দুয়ের অধিক হলে এবং পিতা-মাতা থাকলে, মেয়ে সন্তানেরা পাবে ২/৩ অংশ এবং মা-বাবা প্রত্যেকে ১/৬ অংশ করে অর্থ্যাৎ (১/৬+১/৬)=১/৩। তাহলে মোট দাড়ায় (২/৩+১/৩)=১ অংশ। এখানেই কিন্তু প্রসঙ্গ শেষ। সম্পত্তির বন্টনের এই নির্দেশ কুরআন যা বলছে সেই অনুসারে দুয়ের অধিক মেয়ে সন্তান ও মা-বাবার ক্ষেত্রেই কেবল এই শর্ত কার্যকর হবে।


কিন্তু সূরা নিসা ১১ আয়াতের ২ ও ৪ শর্ত এবং সূরা নিসার ১২ আয়াতের ৪ নং শর্ত কে এক জায়গায় করলে একটি গাণিতিক গোলযোগ বের হবে বলে মনে হবে। হিসাবটি এরুপ (২/৩+১/৩+১/৮)=২৭/২৪>১ অংশ। এটি গাণিতিক ভুল নয়। কারণ হিসাবটি (২/৩+১/৩)=১ অংশ এখানেই শেষ হয়ে গিয়েছে।


সূরা নিসা ১১ আয়াতের ২ নং শর্তে দুইয়ের অধিক মেয়ে সন্তানের থাকার কথা বলা হচ্ছে। অথচ নিসা ১২ আয়াতে দুইটি শর্তে এক জায়গায় সন্তান থাকার শর্ত আছে, আরেক জায়গায় না থাকার শর্ত দেওয়া হয়েছে। অথচ নিসা ১১ আয়াতে কোথাও সন্তান না থাকার প্রসঙ্গ আসে নি কেবলমাত্র ৫ নং পয়েন্ট ছাড়া, যেখানে বলা হচ্ছে মৃত ব্যক্তির সন্তান না থাকলে মৃত ব্যক্তির মা পাবে ১/৩ অংশ।এখানে স্ত্রীর প্রসঙ্গ নেই। অথচ সূরা নিসার ১২ আয়াত আর ১১ আয়াত এক জায়গা করে গাণিতিক ভুল বের করা হলো।


সুতরাং আমাদের কাছে স্পষ্টত হলো এখানে কোন গাণিতিক ভুল নেই। ১৪০০ বছর ধরে এই পদ্ধিতে সম্পত্তির বন্টন চলে আসছে, কোথায় কেউ তো বলল না, কুরআন অনুযায়ী সম্পত্তির হিসাব করা যাচ্ছে না! এতে গাণিতিক ভুল আছে?
নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।

Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Create cross-platform Qt Help files