সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে

Parent Previous Next

তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন? তিনি চন্দ্র ও সূর্যকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে। তুমি কি আরও দেখ না যে, তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন? সূরা লোকমান ৩১:২৯,  


তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে। সূরা আম্বিয়া ২১:৩৩


কুরআন বলে যে ‘সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে’’ ।


জবাব:


কুরআন এখানে পরিষ্কার ভাবেই চন্দ্র এবং সূর্যের একটি নিদিষ্ট অরবিটে ঘূর্ণনের কথা বলেছে।


চন্দ্র সম্পর্কে আমরা জানি এটি পৃথিবীর সাপেক্ষে ২৭.৩ দিনে একবার আবর্তিত হয়। পৃথিবীও সূর্যের চারদিকে ঘুরে বলে এসময় কিছুটা বেড়ে গিয়ে ২৯.৫  দিন হয়। অর্থাৎ চন্দ্র তার নিজ কক্ষপথে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে আসতে ২৯.৫ দিন সময় লাগে।


অপরদিকে সূর্যের নিজ অক্ষে ঘুর্ণন এবং নিজস্ব অরবিটে গ্যালাক্সীর চারদিকে আবর্তন একটি সাম্প্রতিক আবিষ্কার। ১৫১২ সালে দেয়া কোপার্নিকাসের “Heliocentric theory” এর মতে সূর্য স্থির। ১৬০৯ সালে কেপলারের “Astronomia Nova '' নামক বইতে সব গ্রহের নিজ অক্ষের চারদিকে ঘুর্ণনের কোন কথা বলা হয় নি। সাম্প্রতিক গবেষনায় দেখা গেছে সূর্য ২৫ দিনে নিজ অক্ষে একবার ঘূর্ণন সম্পন্ন করে। অতি সাম্প্রতিক গবেষনায় আমরা এর চেয়ে বিস্ময়কর তথ্য পাই। সূর্য 251km/s বেগে স্পেসের মধ্যদিয়ে 225-250 মিলিয়ন বছরে milkyway Galaxy এর কেন্দ্রের চারদিকে আবর্তিত হয়। অর্থাৎ বর্তমানে বিজ্ঞানের ঘোষনা  sun rotates and revolves.



সূরা আম্বিয়ার ৩৩ নং আয়াতে যে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে তা হল ‘ইয়াসবাহুন’। ‘সাবাহা’ শব্দটি থেকে এ শব্দটি এসেছে। এ শব্দটি কোন মাটিতে চলা লোকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলে বুঝতে হবে  সে হাঁটছে অথবা দৌঁড়াচ্ছে। এ শব্দটি পানিতে থাকা কোন লোকের ক্ষেত্রে বলা হলে এর অর্থ এই না যে লোকটি ভাসছে, বরং  বুঝতে হবে লোকটি সাঁতার কাটছে। এ শব্দটি কোন মহাজাগতিক বস্তুর (Celestial body) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলে এর অর্থ করতে হবে এটা নিজ অক্ষে ঘুরছে সাথে সাথে কোন কিছুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে।


অতএব দেখা যাচ্ছে কোরআনের এ আয়াতগুলোতে কোন বৈজ্ঞানিক অসংগতি নেই ।


Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Full-featured multi-format Help generator