নারীকে পুরুষের অর্ধেক সম্পত্তি

Parent Previous Next

কোরআনে যেহেতু নারীকে পুরুষের অর্ধেক সম্পত্তি দেয়া হয়েছে সেহেতু নারী-পুরুষকে সমান অধিকার দেয়া হয়নি!


জবাব:

প্রথমত, কোরআনের আগে-পরে কোন ধর্মগ্রন্থে নারী-পুরুষকে সমান-সমান সম্পত্তি তো দূরে থাক নারীকে আদৌ কোন সম্পত্তি দেয়া হয়েছে কি-না সন্দেহ। এমনকি মুসলিমদের মধ্যে অনেকেই তাদের নারীদেরকে পুরুষের অর্ধেক সম্পত্তিই দেয় না। এই যখন বাস্তবতা তখন ‘অর্ধাংশ’ ও ‘এক-তৃতীয়াংশ’ নিয়ে হৈ-চৈ করার তো কোন মানে হয় না!


দ্বিতীয়ত, সার্বিকভাবে সবকিছু বিচার-বিবেচনা করে কোরআনে নারীকে কিছুটা কম সম্পত্তি দেয়ার পেছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে (৪:৭, ৪:১১-১২, ৪:৭৬)। যেমন:

(১) কোরআনে নারী-পুরুষ উভয়কেই রোজগারের অনুমতি দেয়া হয়েছে (৪:৩২)

অথচ পরিবারের সকল প্রকার ভরণপোষণের দায়-দায়িত্ব শুধু পুরুষের ঘাড়েই চাপিয়ে দেয়া হয়েছে (৪:৩৪)। অর্থাৎ একজন নারী যা রোজগার করবে সেটা তার নিজস্ব কিন্তু পুরুষের রোজগার থেকে সংসারের সকল প্রকার খরচ বহন করতে হবে। নারীকে কি এখানে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলো না? পরিবারের সকল প্রকার ভরণপোষণের ভার নারীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হলে গোঁড়া সমালোচকদের সারা জীবনের ঘুমই হয়তো হারাম হয়ে যেত!

(২) বিবাহ বিচ্ছেদের পরও নারীর ভরণপোষণের ভার পুরুষের উপর ন্যাস্ত করা হয়েছে (২:২৪১)।

এমনকি বিধবাদের ভরণপোষণের কথাও বলা হয়েছে (২:২৪১)।

(৩) কোরআন অনুযায়ী একজন নারী তার স্বামীর সম্পত্তিরও অংশ পাবে।

(৪) নারী-পুরুষকে সমান-সমান সম্পত্তি দেয়া হলে পুরুষদের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হতো। কারণ নারীরা বিয়ের পর স্বামীর বাড়ি যেয়ে স্বামী-সন্তান সহ সেখানেই সেটল হয়ে যায়। ফলে ভাইয়ের পরিবারের এতগুলো সম্পত্তি কীভাবে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যাবে–এ নিয়ে সমস্যা হতো। প্রকৃতপক্ষে স্বামীর অর্থনৈতিক অবস্থা খুব খারাপ না হলে অনেক নারীই তাদের পিতার পরিবার থেকে কোন সম্পত্তি নেয় না। এবার দিন শেষে সবকিছু যোগ-বিয়োগ করার পর নারীদের ‘এক-তৃতীয়াংশ’ কি প্রকৃতপক্ষে ‘এক-তৃতীয়াংশ’-ই থাকবে নাকি বেশী হওয়ার কথা? বিষয়টাকে ইসলামের দর্শনের আলোকে বিচার-বিশ্লেষণ না করে কোরআনকে হেয় করার জন্য লোক দেখানো নারীবাদি সেজে অযথায় মায়াকান্না করলেই তো আর হবে না!

Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Easily create EBooks