সমকামিদেরকে শাস্তির কথা লিখা আছে কেন

Parent Previous Next

সমকামিতা প্রাকৃতিক হওয়া সত্ত্বেও কোরআনে সমকামিদেরকে শাস্তির কথা লিখা আছে কেন? কোরআন কি তাহলে অমানবিক ও ভুল প্রমাণিত হচ্ছে না?


জবাব:

প্রথমত, আমার জানামতে কোরআনের কোথাও সমকামিতাকে ‘অপ্রাকৃতিক’ বা ‘রোগ’ বলা হয়নি। দ্বিতীয়ত, কোরআনে সমকামিদেরকে শাস্তির কথা লিখা নেই। অর্থাৎ কেউ সমকামি হলেই যে তাকে ধরে শাস্তি দিতে হবে- তা কিন্তু মোটেও নয়। কোরআনে যেটা আছে সেটা হচ্ছে লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে লোকালয়ের মধ্যে আকাম-কুকাম করলে এবং সেই আকাম-কুকাম কেউ দেখে ফেললে সেক্ষেত্রেই কেবল শাস্তির কথা লিখা আছে। তৃতীয়ত, সমকামিতাকে ‘প্রাকৃতিক’ বলতে সম্ভবত যেটা বুঝানো হয় সেটা হচ্ছে কিছু পশু-পাখির মধ্যেও সমকামিতা পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু পশু-পাখির মধ্যে সমকামিতা থাকা মানেই যদি সেটা মানুষের জন্যও বৈধ হয়ে যায় তাহলে যারা সমকামিতার পক্ষে সাফাই গাইছেন তাদের কিন্তু খবর আছে! কারণ পশু-পাখিদের মধ্যে ইনসেস্ট তথা অজাচারও বিদ্যমান, এবং সেটি গৃহপালিত পশু-পাখিদের মধ্যেই।


উদাহরণস্বরূপ, ষাঁড়, পাঁঠা, কুকুর, ও মোরগ কোনরকম লজ্জা-শরম ছাড়াই নিজের মা-বোন-মেয়ে’র সাথে সেক্স করে। মজার বিষয় হচ্ছে গৃহপালিত পশু-পাখিদের মধ্যে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে ইনসেস্ট পরিলক্ষিত হলেও সমকামিতা কিন্তু পরিলক্ষিত হয় না। ফলে যারা ইনসেস্ট এর সাথে জড়িত তারা কিন্তু সমকামিদের চেয়ে অনেক বেশী শক্তিশালী “বৈজ্ঞানিক প্রমাণ” দিয়ে তাদের কর্মকান্ডকে সমর্থন করতে পারে। এমনকি এই প্রাণীগুলো যেভাবে দিনে-দুপুরে সবার সামনে তাদের বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গীদেরকে জোর-পূর্বক ধর্ষণ করে সেভাবে মানুষ নামের ধর্ষকরাও কিন্তু তাদের ধর্ষণকে সমর্থন করতে পারে। অধিকন্তু প্রকৃতিতে কুকুর, বিড়াল, ইঁদুর, বানড়, কাক, চিল, ইত্যাদি প্রাণীর মধ্যে চুরির প্রবণতাও পরিলক্ষিত হয়। ফলে চোর-ডাকাতরাও কিন্তু তাদের চুরি-ডাকাতিকে “বৈজ্ঞানিক প্রমাণ” দিয়ে সহজেই সমর্থন করতে পারে। প্রকৃতিতে ক্যানিবলিজমের ঘটনাও বিরল নয়। এরকম আরো উদাহরণ দেয়া সম্ভব।


চতুর্থত, যারা সমকামিতাকে ‘প্রাকৃতিক’ বলে ইসলামের বিরুদ্ধে এই ধরণের অভিযোগ করে তারা কিন্তু মনের অজান্তেই পশু-পাখি থেকে মানুষকে আলাদা করছে! অন্যথায় মানুষও তো প্রকৃতিরই অংশ হওয়ার কথা! ফলে মানুষ হয়ে পশু-পাখিকে অনুকরণ করা যাবে কি-না ভেবে দেখার বিষয়। পশু-পাখিরা কিন্তু মানুষকে অনুকরণ করে না! ঘটনার এখানেই কিন্তু শেষ নয়। যেমন আজ থেকে এই পৃথিবীর সবায় যদি সমকামি হয়ে যায় এবং বৈজ্ঞানিকভাবে ক্লোনিন-টোনিং করা না হয় সেক্ষেত্রে কিন্তু প্রাকৃতিকভাবেই আগামী ১৫০ বছরের মধ্যে পুরো মানব জাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।


যাহোক, সমকামিতা একটি বাস্তবতা হলেও মুসলিমরা সমকামিতাকে এভাবে দেখে না। প্রকৃতিতে পরিলক্ষিত হয় বলেই যে সেটা মানুষের জন্যও বৈধ হয়ে যাবে- মুসলিমরা এই ধরণের অবাস্তব যুক্তিতে বিশ্বাস করে না। বিশ্বাস না করার পেছনে বেশ কিছু “বৈজ্ঞানিক প্রমাণ” সহ যৌক্তিক ব্যাখ্যা তো দেয়াই হলো। অধিকন্তু, মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী কোরআন হচ্ছে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার রেভিলেশন। সেই কোরআনে যেহেতু সমকামিতাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে সেহেতু সমকামিতা নিঃসন্দেহে পজেটিভ কিছু নয়। কোরআনে তার কারণ হিসেবে যেটা বুঝাতে চাওয়া হয়েছে সেটা হচ্ছে একটি জাতির মধ্যে সমকামিতার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে সেই জাতির কপালে দুর্ভোগ আছে। বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও সেরকমই মনে হয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সমকামিদেরকে খুঁজে খুঁজে বা বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে এসে শাস্তি দিতে হবে। না, তা মোটেও কাম্য নয়। একজন মানুষ সমকামি কি-না সেটা তার ‘কার্যকলাপ’ না দেখে শুধু চেহারা দেখে কিন্তু বোঝার উপায় নাই। তা-ই যদি হয় তাহলে তাদের ‘কার্যকলাপ’ নিজ নিজ ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলেই তো হয়ে যায়। এবার বলুন তো মিয়া ভাই, কোরআন কীভাবে অমানবিক বা অবৈজ্ঞানিক বা ভুল প্রমাণিত হলো? হুমম! আমরা মা প্রকৃতিকে খুউব ভালবাসি! শুনুন মিয়া ভাই, কোরআন এমন একটি গ্রন্থ যার বিরুদ্ধে যে কোন ধরণের সমালোচনা বুমেরাং হতে বাধ্য। মা প্রকৃতিকে বেশী ভাল বাসতে যেয়ে অবশেষে মা’র সাথেই যেন…! অতএব সাধু সাবধান!

Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Easily create Help documents