বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা না জানার কারণে গড উদ্ভাবন

Parent Previous Next

একটা সময় ছিল যখন মানুষ বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রপঞ্চের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানতো না। যেমন মেঘ-বৃষ্টির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা না জানার কারণে মেঘ-বৃষ্টির জন্য একজন গড উদ্ভাবন করা হয়। ভূমিকম্পের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা না জানার কারণে ভূমিকম্পের জন্য একজন গড উদ্ভাবন করা হয়। আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা না জানার কারণে আগ্নেয়গিরির জন্য একজন গড উদ্ভাবন করা হয়। ইত্যাদি। ইত্যাদি। ইত্যাদি। এভাবে নিছক অজ্ঞতা থেকেই গডের সৃষ্টি!


জবাব:

প্রথমত, এই অজ্ঞতা বা কু-যুক্তিকে কিন্তু সহজেই খণ্ডন করা সম্ভব। কারণ এই আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের যুগেও কিন্তু অনেকেই উপরোল্লেখিত গডে বিশ্বাস করে। দ্বিতীয়ত, কোরআন ও মুসলিমদের বিশ্বাসের আলোকে এই ধরণের যুক্তির আসলে কোন মূল্যই নেই। কোরআনের কোথাও বলা হয়নি যে, কোন কিছুর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা না জানার কারণে গডের সরণাপন্ন হতে হয়েছে। কোরআনে বরঞ্চ ঠিক তার বিপরীতটাই দেখা যায়। যেমন কোরআনে কীভাবে মেঘ তৈরী হয়ে বৃষ্টি হয় তার বর্ণনা দেয়ার পরও সেই প্রপঞ্চকে গডের প্রতি অ্যাট্রিবিউট করা হয়েছে (২৪:৪৩, ৩০:৪৮)।

অর্থাৎ কোরআন অনুযায়ী সবকিছুর আলটিমেট নিয়ন্ত্রক হচ্ছেন এই মহাবিশ্বের একজন মহান সৃষ্টিকর্তা। কোরআন থেকে এরকম আরো অনেক উদাহরণ দেয়া সম্ভব। তৃতীয়ত, কোন কিছুর মেকার সত্যি সত্যি থেকে থাকলে তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানলেও থাকবে আবার না জানলেও থাকবে। কোন কিছুর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানার আগ পর্যন্ত তার মেকার থাকে, তারপর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জেনে গেলে সেই মেকার ‘নাই’ হয়ে যায় নাকি! উদাহরণস্বরূপ, আমাজন জঙ্গলের বাসিন্দারা ল্যাপটপের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানে না বলে তাদের কাছে ল্যাপটপের মেকার আছে কিন্তু বিজ্ঞানীরা ল্যাপটপের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানেন বলে তাদের কাছে ল্যাপটপের কোন মেকার নাই!?! তাহলে তো মনে হচ্ছে যারা এই ধরণের কু-যুক্তিতে বিশ্বাস করে তারা নিজেরাই আসলে আমাজন জঙ্গলের বাসিন্দা!

Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Free EBook and documentation generator