মানুষের প্রয়োজনেই মানুষ গড ও ধর্ম সৃষ্টি

Parent Previous Next

মানুষের প্রয়োজনেই মানুষ গড ও ধর্ম সৃষ্টি করেছে!


জবাব:

প্রথমত, মানুষের প্রয়োজনেই যদি মানুষ গড ও ধর্ম সৃষ্টি করে থাকে তাহলে কার প্রয়োজনে কে আবার মানুষ সৃষ্টি করেছে! কার প্রয়োজনে কে সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টি করেছে! কার প্রয়োজনে কে ফল-মূল ও খাদ্য-শস্য সৃষ্টি করেছে! কার প্রয়োজনে কে আলো-বাতাস ও পানি সৃষ্টি করেছে! সর্বোপরি, কার প্রয়োজনে কে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছে? জবাব নেই! জবাব নেই! জবাব নেই! অতএব এই ধরণের যুক্তির কিন্তু কোনই মূল্য থাকছে না।


দ্বিতীয়ত, ‘গড’ ও ‘ধর্ম’ শব্দ দুটি আসলে অনেকের কাছেই বিভ্রান্তিকর। কারণ ‘গড’ বলতে যেমন অনেকের মনে অগণিত গড ভেসে ওঠে তেমনি আবার ‘ধর্ম’ বলতেও অনেকের মনে অসংখ্য ধর্ম ভেসে ওঠে। অনেকেই অজ্ঞতাবশত মনে করেন যে, এই পৃথিবীতে অনেকগুলো গড ও ধর্ম আছে! যেমন গুগল সার্চ দিলে অনেক গডের ইমেজ দেখা যায় যারা আমাদেরই মত মানুষ। এই গডগুলোকে যে মানুষের প্রয়োজনেই মানুষ সৃষ্টি করেছে তাতে কোনই সন্দেহ নেই। এখন কেউ যদি ‘গড’ বলতে এঁদেরকেই বুঝে থাকেন তাহলে কিছু বলার নাই। অনুরূপভাবে, কিছু কিছু ধর্ম যে শত শত বছর ধরে বিবর্তিত হয়েছে তাতেও কোন সন্দেহ নেই। যেমন প্রায় চল্লিশ জন অথার মিলে প্রায় চৌদ্দশ’ বছর ধরে এক বাইবেল লিখা হয়েছে এবং এখনও সংস্কার চলছে। ঋগ্বেদ থেকে শুরু করে আরো তিন খন্ড বেদ সহ রামায়ণ, মহাভারত, গীতা, উপনিষদ, মনুস্মৃতি, ইত্যাদি ধর্মগ্রন্থও যে শত শত বছর ধরে লিখা হয়েছে তাতেও কোন সন্দেহ নেই। দশজন গুরু মিলে দীর্ঘদিন ধরে শিখিজমের ধর্মগ্রন্থ লিখা হয়েছে। অন্যদিকে প্রফেট মুহাম্মদের জীবদ্বশায় মাত্র তেইশ বছরে কোরআন লিখা হয়েছে এবং তারপর থেকে কোনরকম সংস্কার হয়নি।

Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Easy CHM and documentation editor