কোরআনে বিজ্ঞানের সূত্র

Parent Previous Next

মুসলমানরা কোরআনের বাক্যের মাধ্যমে বিজ্ঞানের সূত্র আবিষ্কারের ধান্ধায় আছে ।


জবাব:

-যারা মনে করে মুসলমানরা কোরআনের বাক্যের মাধ্যমে বিজ্ঞানের সূত্র আবিষ্কারের ধান্ধায় আছে তাহলে সে বোকার স্বর্গে বাস করছে, কারন কোরআন শরীফ পাঠ করে কেউ নিউটনের গতির সূত্র বের করতে পারবে না, কোরআন কোন বিজ্ঞানের পাঠ্য বই নয়, কিন্তু ঘটনা হল মুসলমানরা যেহেতু বিশ্বাস করে এই কিতাব আল্লাহর, জগতের সৃষ্টিকর্তার তরফ থেকে অবতীর্ণ সুতারাং এটি প্রতিষ্ঠিত যেকোন সত্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

এই সামঞ্জস্যপূর্ণতা খুব গুরুত্বপূর্ণ,যেমন

ধরা যাক বেশিদিন আগের নয়,১৯১৩ সালের দিকে আর্থার কোনান ডয়েল তার প্রফেসর চ্যালেঞ্জারকে নিয়ে লেখা এক গল্পে (The Poison Belt)উল্লেখ করেছিলেন, ইথার নামক এক কমন মাধ্যম-এ পুরো সৌরজগত আবদ্ধ,ফলে এক মহাজাগতিক দূষনের মধ্যে পৃথিবী প্রায় আধাদিন আটকে থাকে। ইথার নামক এ অলীক মাধ্যম তার গল্পে উঠে আসে কারন সে সময় অনেকে ভাবত মাধ্যম ছাড়া সূর্য থেকে আলো আসে কীভাবে।

আবার শেক্সপিয়রের এক নাটকে ( King Henry the Fourth) যেসব মৌমাছি মধু সংগ্রহ করতে আসে সেগুলোকে male হিসেবে দেখানো হয়, অথচ এখন সবাই আমরা জানি মধুসংগ্রাহী মৌমাছি কখনই male নয়। কারন সেসময়ে সবাই তাই জানত।

সাহিত্যে এ ধরনের ভুল খুবই সম্ভব, প্রাচীন যেকোন সাহিত্য বা লেখাতে এ ধরনের প্রচুর ভুল পাওয়া যাবে। কিন্তু ধর্মগ্রন্থগুলি যত প্রাচীনই হোক না কেন, তা স্রষ্টার তরফ থেকে আসলে সেখানে এধরনের ভুলও থাকবে না, তাই যখন শেক্সপিয়রের হাজার বছর আগে অবতীর্ণ কোরআনের সূরা আন-নাহলে (মানে সূরা মৌমাছি) খাদ্য সংগ্রাহী মৌমাছিদের দেখানো হয় female হিসেবে তখন মুসলমানরা বলতেই পারে কোরআন বিজ্ঞানসম্মত বা বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এম্ব্রাওলজির ব্যাপারটাও এরকম, কিছুদিন আগ পর্যন্তও এ সংক্রান্ত তত্ত্বগুলো এখনকার সাধারণমানুষজনেদর কাছে যথেষ্ট হাস্যকর মনে হবে। 1675 সালে Marcello Malpighi বলেন, এগ এর ভিতর ভ্রূণের মিনিয়েচার থাকে, আবার ১৬৭৭ সালে লিউয়েন হুক সর্বপ্রথম মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে ভ্রূণ দেখতে সমর্থ হন, তারপরও তিনি বেশ বড়সর একটা ভুল করে বসেন, তিনি Marcello এর ঠিক উল্টো কথা বলেন, তিনি বলেন sperm এর মধ্যে এক ক্ষৃদ্রাকৃতির মানব সন্তান বসানো থাকে। অ্যারিস্টটলএর ধারনা ছিল menstrual blood এবং semen মিলে uterus এর ভিতর বেশ বড় আকারে ভ্রুণ তৈরি হয়, সেটা পর্যায়ক্রমে মানবশিশুতে পরিণত হয়। অথচ আমরা পরবর্তী আলোচনায় দেখতে পাব এসবের চেয়ে দেড় হাজার বছর আগেকার কোরানিক বর্ণনা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।

Created with the Personal Edition of HelpNDoc: Free EBook and documentation generator